জাতীয়

একটি দেশের ব্র্যান্ড তৈরি হয় কীভাবে?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একটি দেশের ব্র্যান্ড কি শুধু একটি লোগো? একটি স্লোগান? কোনো পর্যটন বিজ্ঞাপনে নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড় আর হাসিমুখের মানুষের ছবি? নাকি ব্র্যান্ড আসলে আরও গভীর কিছু—একটি দেশের সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষের মনে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী ধারণা? একজন পর্যটক যখন জাপানের কথা ভাবেন, তাঁর মনে প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য ও নির্ভরযোগ্যতার ছবি ভেসে উঠতে পারে। সুইজারল্যান্ড মনে করিয়ে দেয় নির্ভুলতা, মান ও আস্থা। ইতালি মানে শিল্প, খাবার, ফ্যাশন ও ইতিহাস। নিউজিল্যান্ড মানে প্রকৃতি ও অভিযাত্রা। সিঙ্গাপুর মানে দক্ষতা, পরিচ্ছন্নতা ও কার্যকর রাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়া একসময় ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দরিদ্র দেশ; আজ তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, সংগীত ও উদ্ভাবন। এগুলো কোনো একদিনে তৈরি হয়নি। একটি দেশের ব্র্যান্ড তৈরি হয় বহু বছরের ধারাবাহিক কাজ, নীতি, আচরণ, সংস্কৃতি, পণ্য, প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের অভিজ্ঞতার সমষ্টিতে। বাংলাদেশের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—বিশ্বের কাছে আমাদের পরিচয় কী? সস্তা শ্রম? তৈরি পোশাক? নদী ও বন্যা? ঘনবসতি? জলবায়ু ঝুঁকি? নাকি সম্ভাবনাময় তরুণ জনগোষ্ঠী, সংস্কৃতি, উদ্যোক্তা, খাদ্য, প্রকৃতি, সহনশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি? সমস্যা হলো, বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের ধারণা এখনো অনেকাংশে অন্যরা তৈরি করে দেয়। কখনো দুর্যোগের ছবি, কখনো দারিদ্র্যের গল্প, কখনো রাজনৈতিক সংকট, কখনো পোশাকশিল্পের শ্রমিক—এই বিচ্ছিন্ন ছবিগুলোই আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের পরিচয়ের বড় অংশ হয়ে ওঠে। অথচ একটি দেশের ব্র্যান্ড তার নিজের হাতে তৈরি হওয়া উচিত। দেশের ব্র্যান্ড তৈরি করা কোনো বিজ্ঞাপন সংস্থার একক দায়িত্ব নয়। এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। একটি দেশের পর্যটন মন্ত্রণালয় এক ধরনের ছবি দেখাবে, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আরেক ধরনের বার্তা দেবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্য ভাষায় কথা বলবে, আবার দেশের ভেতরের রাজনৈতিক অস্থিরতা সব বার্তাকে মুছে দেবে—এভাবে কোনো জাতীয় ব্র্যান্ড তৈরি হয় না। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো—আমাদের কাছে একটি শক্তিশালী গল্প আছে। এই গল্পের শুরু শুধু মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে নয়; এর শিকড় আরও গভীরে। প্রাচীন সভ্যতা, বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চা, সুলতানি স্থাপত্য, নদীমাতৃক জীবন, লোকসংস্কৃতি, বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের একটি অনন্য সভ্যতাগত পরিচয় রয়েছে। ব্র্যান্ড তৈরি হয় যখন একটি দেশের বাস্তবতা এবং তার প্রচারিত পরিচয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে। বাংলাদেশ যদি নিজেকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে, কিন্তু বিনিয়োগকারী ব্যবসা শুরু করতে দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে যান, তাহলে কোনো প্রচারাভিযানই দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না। আমরা যদি নিজেদের পর্যটনবান্ধব দেশ বলি, কিন্তু ঐতিহাসিক স্থাপনায় যাওয়ার রাস্তা খারাপ থাকে, পর্যটনকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা না থাকে, তথ্য ও নিরাপত্তার ঘাটতি থাকে, তাহলে বিজ্ঞাপনের ছবি বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলবে না। আজকের বিশ্বে মানুষ বিজ্ঞাপনের চেয়ে অভিজ্ঞতাকে বেশি বিশ্বাস করে। একজন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসে যদি সুন্দরবনের অসাধারণ সৌন্দর্য দেখেন, কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অনিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা বা তথ্যের অভাবের মুখোমুখি হন, তাহলে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশের ব্র্যান্ড হয়ে উঠবে। একইভাবে একজন বিনিয়োগকারী যদি দক্ষ শ্রমশক্তি পান, কিন্তু নীতি-অনিশ্চয়তা, দুর্নীতি বা আমলাতান্ত্রিক বিলম্বের সম্মুখীন হন, তাহলে তাঁর অভিজ্ঞতা অন্য বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের পরিচয় বহন করবে। ব্র্যান্ড তাই মূলত বিশ্বাসের আরেক নাম। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো—আমাদের কাছে একটি শক্তিশালী গল্প আছে। এই গল্পের শুরু শুধু মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে নয়; এর শিকড় আরও গভীরে। প্রাচীন সভ্যতা, বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চা, সুলতানি স্থাপত্য, নদীমাতৃক জীবন, লোকসংস্কৃতি, বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের একটি অনন্য সভ্যতাগত পরিচয় রয়েছে। কিন্তু আমরা এই গল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে কতটা সুন্দরভাবে বলতে পেরেছি? বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে অনেক সময় বিচ্ছিন্ন কিছু স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পাহাড়পুর একদিকে, বাগেরহাট আরেকদিকে, সোনারগাঁ অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ আলাদা। এগুলোকে একটি বৃহত্তর জাতীয় গল্পের অংশ হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ সীমিত। অথচ একটি দেশ তার ইতিহাসকে গল্পে পরিণত করতে পারলে সেই ইতিহাস অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে। মিশরের পিরামিড, গ্রিসের অ্যাক্রোপলিস, ইতালির রোম, তুরস্কের ইস্তাম্বুল, ভারতের রাজস্থান—এসব শুধু ঐতিহাসিক স্থান নয়; এগুলো দেশের ব্র্যান্ডের অংশ। মানুষ সেখানে শুধু স্থাপনা দেখতে যায় না; একটি গল্পের অংশ হতে যায়। বাংলাদেশেরও এমন গল্প আছে। প্রয়োজন শুধু তার উপস্থাপনা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ। দেশের ব্র্যান্ড তৈরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পণ্য। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ কথাটি এখনো প্রধানত তৈরি পোশাকের সঙ্গে যুক্ত। এটি অবশ্যই বাংলাদেশের বড় সাফল্য। কিন্তু একটি দেশের অর্থনীতি ও পরিচয় যদি একটিমাত্র শিল্পের ওপর নির্ভর করে, তাহলে জাতীয় ব্র্যান্ডও সংকীর্ণ হয়ে যায়। বাংলাদেশের পাট, জামদানি, নকশিকাঁথা, মসলিনের ঐতিহ্য, চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প, ওষুধ, সফটওয়্যার, কৃষিপণ্য, সামুদ্রিক সম্পদ—এসবকে আন্তর্জাতিক মান, নকশা ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ একটি বহুমাত্রিক পরিচয় পেতে পারে। এখানে মানের প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ব্র্যান্ড তৈরি হয় ভালো পণ্যের মাধ্যমে, কিন্তু টিকে থাকে ধারাবাহিক মানের মাধ্যমে। একটি বাংলাদেশি পণ্য একবার ভালো হলেই হবে না; প্রতিবার একই মান বজায় রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে একটি খারাপ অভিজ্ঞতা বহু ভালো অভিজ্ঞতাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। তাই মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং, নকশা, সরবরাহব্যবস্থা ও গ্রাহকসেবাকে জাতীয় ব্র্যান্ড কৌশলের অংশ করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি কেবল পণ্য রপ্তানি করেনি; তারা একটি সাংস্কৃতিক পরিচয়ও রপ্তানি করেছে। সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র, খাবার, প্রসাধন ও প্রযুক্তি—সব মিলিয়ে কোরিয়ার একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক পরিচয় তৈরি হয়েছে। সংস্কৃতি সেখানে অর্থনীতির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; অর্থনীতির সহযাত্রী। বাংলাদেশেরও এই সম্ভাবনা আছে। বাংলা গান, চলচ্চিত্র, সাহিত্য, খাবার, তাঁত, লোকসংগীত ও লোকশিল্প আন্তর্জাতিকভাবে আরও বড় পরিসরে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু এর জন্য কেবল আবেগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পেশাদার ব্যবস্থাপনা, অনুবাদ, ডিজিটাল বিতরণ, আন্তর্জাতিক বিপণন এবং সৃজনশীল শিল্পে বিনিয়োগ। একটি দেশের ব্র্যান্ড তৈরি হয় তার মানুষের আচরণেও। বিদেশি পর্যটক বিমানবন্দরে নামার পর কী অভিজ্ঞতা পেলেন, ব্যবসায়ী সরকারি অফিসে কী ধরনের সেবা পেলেন, শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে করলেন, প্রবাসী শ্রমিক বিদেশে কীভাবে কাজ করলেন—সবকিছু মিলেই একটি দেশের ভাবমূর্তি তৈরি হয়। রাষ্ট্রের ব্র্যান্ড কখনো রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপনের চেয়ে বড় হয় না; বরং নাগরিকের দৈনন্দিন আচরণে তার সত্যিকারের প্রকাশ ঘটে। এই কারণেই সুশাসন জাতীয় ব্র্যান্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুর্নীতি, আইনহীনতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, অনিরাপত্তা ও নীতির অনিশ্চয়তা কোনো দেশের ব্র্যান্ডকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করে। একটি দেশের ভালো ব্র্যান্ডিং করতে চাইলে তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভালো হতে হবে। কারণ বিশ্বের মানুষ এখন তথ্যের যুগে বাস করে। কোনো দেশের ইতিবাচক প্রচারণা কয়েক মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি নেতিবাচক অভিজ্ঞতায় প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য তাই জাতীয় ব্র্যান্ডিংয়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রয়োজন। সরকার বদলালেই যাতে দেশের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের মূল কাঠামো বদলে না যায়, সে জন্য একটি সর্বদলীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতি দরকার। এই কৌশলে পর্যটন, বিনিয়োগ, রপ্তানি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং কূটনীতিকে সমন্বিত করতে হবে। একটি শক্তিশালী জাতীয় ব্র্যান্ডের কয়েকটি মূল বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে—বাংলাদেশ হবে সম্ভাবনার দেশ, উদ্ভাবনের দেশ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দেশ, মানবিকতার দেশ এবং টেকসই উন্নয়নের দেশ। তবে এই পরিচয় স্লোগানে নয়, বাস্তব কর্মে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীও জাতীয় ব্র্যান্ডের বড় সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তরুণেরা প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্যোক্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সৃজনশীল শিল্পে কাজ করছেন। তাঁদের সাফল্য বাংলাদেশের একটি অনানুষ্ঠানিক দূতাবাসের মতো। প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না; তাঁরা বিদেশে বাংলাদেশের সামাজিক ও পেশাগত পরিচয়ও বহন করেন। রাষ্ট্রের উচিত এই বৈশ্বিক বাংলাদেশি নেটওয়ার্ককে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানো। সফল প্রবাসী পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, গবেষক ও শিল্পীদের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে সবকিছুর আগে আমাদের নিজেদের সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা প্রয়োজন। আমরা কি শুধু ‘উন্নয়নশীল দেশ’ হিসেবে পরিচিত হতে চাই? নাকি এমন একটি দেশ হিসেবে পরিচিত হতে চাই, যে তার ইতিহাসকে সম্মান করে, সংস্কৃতিকে আধুনিক করে, প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে, পরিবেশকে রক্ষা করে এবং মানুষের মর্যাদাকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রে রাখে? একটি দেশের ব্র্যান্ড বাইরে থেকে বানানো যায় না। বাইরে প্রচার করা যায়, কিন্তু ভিতরে তৈরি করতে হয়। মন্টেনেগ্রোর সমুদ্রের বুকে ছোট্ট Our Lady of the Rocks যেমন একটি দেশের ইতিহাস, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হয়েছে, বাংলাদেশও তার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে পারে। আমাদের একটি নদী শুধু নদী নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সভ্যতা। একটি মসজিদ শুধু স্থাপনা নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। একটি গান শুধু গান নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের স্মৃতি। একটি পোশাক শুধু পণ্য নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এসবকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখব, নাকি একটি বৃহত্তর বাংলাদেশি গল্পের অংশ হিসেবে বিশ্বকে বলব? একটি দেশের ব্র্যান্ড তৈরি হয় তখনই, যখন তার মানুষ নিজেদের দেশ সম্পর্কে গর্ব করার মতো বাস্তব কারণ পায় এবং সেই বাস্তবতাকে পৃথিবীর কাছে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরতে পারে। ব্র্যান্ড কোনো মিথ্যা ছবি নয়; এটি একটি দেশের সত্যিকারের শক্তির সুসংগঠিত প্রকাশ। বাংলাদেশের সামনে তাই কাজটি কেবল একটি নতুন লোগো বা আকর্ষণীয় স্লোগান তৈরি করা নয়। আমাদের দরকার এমন একটি দেশ তৈরি করা, যার বাস্তবতা নিজেই তার বিজ্ঞাপন। এমন একটি দেশ, যেখানে একজন পর্যটক এসে ইতিহাসের গল্প নিয়ে ফিরে যাবেন, একজন বিনিয়োগকারী আস্থা নিয়ে ফিরবেন, একজন শিক্ষার্থী সম্ভাবনা দেখবেন এবং একজন প্রবাসী গর্ব করে বলবেন—আমি বাংলাদেশি। শেষ পর্যন্ত একটি দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ড তার পতাকা নয়, তার বিজ্ঞাপন নয়, তার প্রচারচিত্রও নয়। সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হলো মানুষের মনে তৈরি হওয়া আস্থা। বাংলাদেশ যদি সেই আস্থা তৈরি করতে পারে—তার প্রতিষ্ঠান দিয়ে, তার মানুষ দিয়ে, তার ইতিহাস দিয়ে, তার পণ্য দিয়ে এবং তার ভবিষ্যতের প্রতি বিশ্বাস দিয়ে—তাহলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচয় অন্য কেউ লিখে দেবে না। বাংলাদেশ নিজেই নিজের গল্প লিখবে। আর সেই গল্প যদি সত্য, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় হয়, তাহলে একদিন ‘বাংলাদেশ’ নামটিই হয়ে উঠবে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী জাতীয় ব্র্যান্ড। সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com এইচআর/এএমএফ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>