কেতকী কুশারী ডাইসন চলে গেলেন। মৃত্যুর খবরটি শোনার পর বারবার সেই অদ্ভুত অনুভূতির কাছে ফিরে যাচ্ছিলাম, যখন তাঁর বই পড়তে পড়তে আমার ভেতরটা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছিল। তাঁর বই পড়ে দেশ, ভাষা, অভিবাসন, নারী, প্রেম, ইতিহাস, আত্মপরিচয়—সবকিছু নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখেছিলাম।
কেতকী কুশারী ডাইসনের সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপারটি সম্ভবত বহুমুখিতা নয়, বহুমুখিতার মধ্যে গভীর অন্তঃসম্পর্ক। তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, গবেষক ও নাট্যকার।
কিন্তু আলাদা আলাদা শেলফে তাঁকে রাখা যায় না। তাঁর গবেষণার ভেতর কবির কৌতূহল, উপন্যাসের ভেতর গবেষকের অনুসন্ধান, অনুবাদের ভেতর নিজের ভাষাকে নতুন করে আবিষ্কার করার তাগিদ, প্রবন্ধের ভেতর ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা—সব সময় একসঙ্গে কাজ করেছে।
নিজের লেখক-পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, বৈচিত্র্যময় সাহিত্যিক রূপ আর প্রবল দ্বিসাংস্কৃতিক ও দ্বিভাষিকতা তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। সৃষ্টিশীল ও গবেষণামূলক লেখার মাঝের দেয়াল ভেঙে দেওয়াও ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য।
এ জায়গা থেকেই কেতকীকে পড়তে হয়। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ছিল বোধ হয়, একজন মানুষ একসঙ্গে কতগুলো পৃথিবীর অধিবাসী হতে পারে?
কলকাতায় জন্ম, যাদবপুরে ইংরেজি সাহিত্য পড়া, অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষা, তারপর ইংল্যান্ডে দীর্ঘজীবন—এই ঘটনাগুলোকে স্রেফ জীবনী হিসেবে পড়লে কেতকীর আসল গল্পটি ধরা পড়ে না। যদিও ভৌগোলিক পরিবর্তন ধীরে ধীরে তাঁর জীবনে সাহিত্যিক বিষয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তিনি প্রবাসকে কখনো নস্টালজিয়ার বিষয় করেননি। দেশ আর বিদেশ—সরল দুই মেরুর মাঝখানে মানুষের যে অসংখ্য মানসিক অবস্থান থাকে, কেতকী সেই জায়গা আবিষ্কার করেছিলেন।
তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’ এক অর্থে বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই। ১৯৮১-৮২ সালে দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৩ সালে বই আকারে বেরোয় উপন্যাসটি। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র নোটন দাস ইংল্যান্ডের নর্টন হিলে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাসকারী একজন বাঙালি নারী। কিন্তু উপন্যাসটির অভিনবত্ব কাহিনিতে যতটা, তার চেয়ে বেশি নির্মাণশৈলীতে। চিঠি ও দিনলিপি আকারে লেখা এই উপন্যাসে একজন নারী একটি অপরিচিত সমাজব্যবস্থা দেখতে দেখতে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন।
এই উপন্যাসে কেতকীর নিজের জীবনের সঙ্গে সাহিত্যের দূরত্ব খুব কম। তবে আত্মজীবনীমূলক বলেই ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’ গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ কারণ, কেতকী প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতাকে ‘বিদেশের মাটিতে বাঙালির দুঃখ’–জাতীয় সহজ আবেগে নামিয়ে আনেননি।
নর্টন হিলও তাঁর কাছে কুয়াশাচ্ছন্ন বিদেশবিভুঁই নয়, মানুষে ভরা একটি শহর। সেখানে ইংরেজ আছে, আইরিশ আছে, আলজেরীয় আছে। আছে প্রতিবেশী, পরিবার, সন্তান, প্রকৃতি, দৈনন্দিনতার ছোটখাটো ঝামেলা, সামাজিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক অস্বস্তি।
নোটনের পৃথিবী তাই একরঙা নয়। গবেষণাভিত্তিক এক আলোচনাতেও উপন্যাসটির এই বহু সাংস্কৃতিক চরিত্র সমাবেশকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কেতকীর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিকতোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ তাঁকে বাংলা সাহিত্যে আরও স্বতন্ত্র জায়গা করে দেয়। বইটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, আনন্দ পুরস্কার পায় ১৯৮৬ সালে। বইটির বিশেষত্ব পুরস্কারে নয়, অন্য জায়গায়। বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস কেমন হতে পারে, গবেষণা কোথায় শেষ হয়, আর কল্পনা কোথা থেকে শুরু হয়—এই পুরোনো সীমারেখা বইটিতে নেই।
রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ক নিয়ে লেখা এই উপন্যাসে কেতকী ইতিহাস খুঁজেছেন। চিঠিপত্র ও নথি ঘেঁটেছেন। অনুবাদ করেছেন। আবার সেই উপাদান উপন্যাসের শরীরে বসিয়েছেন। তাঁর নিজের ভাষ্য থেকেই জানা যায়, প্রথমে তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ও ওকাম্পোকে নিয়ে একটি ছোট বই লিখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর ভেতরে তখন উপন্যাস তৈরি হচ্ছিল। তথ্যকে প্রচলিত গবেষণাগ্রন্থের কাঠামোয় সাজাতে তাঁর মন সায় দেয়নি। একসময় তিনি এমন একটি রচনাকৌশল আবিষ্কার করেন, যেখানে গবেষণা ও উপন্যাস পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায়।
কেতকীর সাহিত্যবোধ বোঝার জন্য এই নির্মাণশৈলীও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি তথ্যকে কল্পনার শত্রু ভাবেননি। আবার কল্পনাকেও তথ্যের বিকল্প করেননি। সত্যকে বোঝার জন্য কখনো কখনো কল্পনা ও তথ্য—দুটিই প্রয়োজন, এটা কেতকী আবিষ্কার করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ও ওকাম্পোর সম্পর্ক তাঁর কাছে কোনো চটুল প্রেমকাহিনি ছিল না। দুটি ভিন্নসংস্কৃতির দুজন অসাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বৌদ্ধিক বোঝাপড়া। আর সেই বোঝাপড়া পোক্ত করতে কেতকী নিজের অভিজ্ঞতার প্রতিফলনও কাজে লাগিয়েছেন। একজন বাঙালি নারী, যিনি নিজেও দুই সংস্কৃতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি দুটি মহাদেশের দুজন মানুষের পারস্পরিক আকর্ষণ ও বোঝাপড়াকে ঠিক কীভাবে দেখবেন?
এই উপন্যাসের সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি এখানেই। রবীন্দ্রনাথকে তিনি কোনো পবিত্র মূর্তি হিসেবে দেখেন না, ওকাম্পোকেও তাঁর জীবনের একটি অধ্যায় হিসেবে দেখেন না। দুজনকেই মানুষ হিসেবে দেখেন। তাঁদের সময়, সমাজ, আকাঙ্ক্ষা, বুদ্ধি ও সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে দেখেন। আর এই দেখার মধ্যেই কেতকীর নারীদৃষ্টি প্রবল হয়ে ওঠে।
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কেতকীর সম্পর্ক অবশ্য আরও দীর্ঘ। ছোটবেলায় তাঁর পাঠের শুরুই হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের শিশু দিয়ে, পরে কথা ও কাহিনি। রবীন্দ্রনাথ আর বুদ্ধদেব বসু তাঁর কবিজীবনের প্রথম দিকে গভীর প্রভাববলয় তৈরি করেছিল। কেতকী রবীন্দ্রনাথকে উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তবে অন্ধভক্তির মাধ্যমে নয়, অনুসন্ধানের মাধ্যমে। তাঁর রবীন্দ্রনাথচর্চার মধ্যে একধরনের স্বাধীনতা ছিল, যে স্বাধীনতা রবীন্দ্রনাথকেই আবার প্রশ্ন করতে পারে।
‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’ সেই ধারাবাহিকতার একটি দুর্দান্ত উদাহরণ। সুশোভন অধিকারীর সঙ্গে লেখা এই বৃহৎ গবেষণাগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের বর্ণদৃষ্টি, সাহিত্য ও চিত্রকলার সম্পর্ক নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। বইটি ১৯৯৭ সালে আনন্দ পুরস্কার পায়। কেতকীর নিজের পুরস্কারের তালিকাতেও কাজটির উল্লেখ আছে।

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এত লেখালেখি হয়েছে যে নতুন করে তাঁকে দেখার জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন। কেতকী সেই জায়গা খুঁজেছিলেন রঙের মধ্যে। একজন কবির ভাষায় রং কীভাবে কাজ করে? একজন শিল্পীর চোখ তাঁর লেখার ভাষাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে? দেখা ও লেখা কি সম্পূর্ণ আলাদা দুটি ক্রিয়া? রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলাকে তাঁর সাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখলে কী হারিয়ে যায়?
এই প্রশ্নগুলো শুধু রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে নয়, কেতকীর নিজের সাহিত্যবোধেরও প্রশ্ন। তিনি কোনো মানুষকে একটিমাত্র পরিচয়ে শেষ করতে চাননি। কবিকে শুধু কবিতা দিয়ে, নারীকে শুধু নারীত্ব দিয়ে, প্রবাসীকে শুধু দেশত্যাগ দিয়ে কিংবা একজন লেখককে শুধু তাঁর সাহিত্য দিয়ে বোঝা কেতকীর স্বভাবে ছিল না।
কেতকীর প্রবণতার আরও একটি বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ‘আ ভ্যারিয়াস ইউনিভার্স’ (A Various Universe)। অক্সফোর্ডে তাঁর ডক্টরাল গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই বইয়ে ১৭৬৫ থেকে ১৮৫৬ সালের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী ব্রিটিশ পুরুষ ও নারীদের জার্নাল ও স্মৃতিকথা নিয়ে তিনি কাজ করেন। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এটা তাঁর উপন্যাস বা কবিতার পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আসলে তা নয়।
এখানেও কেতকী দেখছেন একটি সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতিকে কীভাবে দেখে।
তবে এখানে দৃষ্টির দিকটি বদলে গেছে। ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’তে একজন বাঙালি নারী ব্রিটেনকে দেখছেন। ‘আ ভ্যারিয়াস ইউনিভার্স’–এ কেতকী অনুসন্ধান করছেন, ব্রিটিশরা ঔপনিবেশিক ভারতে এসে ভারতকে কীভাবে দেখেছিল। এ জন্য কেতকীর সাহিত্যিকর্মে একটি বৌদ্ধিক আয়না তৈরি হয়। একদিকে ভারত থেকে যাওয়া মানুষ ইংল্যান্ডকে দেখছে, অন্যদিকে ইংল্যান্ড থেকে আসা মানুষ ভারতকে দেখছে। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে কেতকী প্রশ্ন করছেন, আমরা যখন অন্যকে দেখি, তখন আসলে কতটা অন্যকে দেখি, আর কতটা নিজেদের পূর্ব ধারণাকেই অন্যের ওপর প্রতিফলিত করি?
প্রশ্নটি হয়তো তাঁর সাহিত্যিক জীবনের সবচেয়ে গভীর প্রশ্ন।
কেতকীর প্রবন্ধসংগ্রহ ভাবনার ভাস্কর্যের দিকে তাকালেও তাঁর বিস্তৃত চিন্তার জগৎটি স্পষ্ট হয়। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গ্রন্থসমালোচনা সেখানে সংকলিত হয়েছিল, বিষয়ও ছিল বিচিত্র। সাহিত্য, নাটক, চিন্তা, ব্যক্তি, শিল্প; অর্থাৎ কেতকীর বৌদ্ধিক কৌতূহল কোনো একটি বিষয়ের মধ্যে স্থির থাকেনি। তাঁর কাছে সাহিত্য মানে ছিল পৃথিবীকে বোঝার একটি পদ্ধতি।
আর সেই পৃথিবীতে নারীরা কখনো প্রান্তিক ছিল না।
কেতকীর লেখায় নারী কোনো ‘সিম্বল’ নয়, একজন সম্পূর্ণ মানুষ। যার নিজস্ব বুদ্ধি আছে, ইচ্ছা আছে, যৌনতা আছে, একাকিত্ব আছে, সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব আছে, নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথন আছে। বিশেষত প্রবাসী নারীর অভিজ্ঞতাকে তিনি এমন এক জায়গা থেকে দেখেছেন, যেখানে নারীকে একই সঙ্গে নিজের পুরোনো সমাজের স্মৃতি আর নতুন সমাজের বাস্তবতার মধ্যে বাস করতে হয়। তার ওপর থাকে পরিবার, মাতৃত্ব, সম্পর্ক এবং নিজের স্বাধীন সত্তাকে টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন।
আজকের পৃথিবীতে মানুষ আরও বেশি ভ্রমণ করছে। দেশ বদলাচ্ছে, ভাষা বদলাচ্ছে, একাধিক সংস্কৃতির মধ্যে বড় হচ্ছে। কিন্তু সেই সঙ্গে পরিচয়ের সংকটও বাড়ছে। আমি কোথাকার? আমার ভাষা কোনটি? আমি কি আমার জন্মভূমির, নাকি যে দেশে বাস করি সেখানকার? একটি ভাষায় লিখলে কি অন্য ভাষাটি আমার ভেতর থেকে সরে যায়? দুটি সংস্কৃতির মধ্যে বাস করলে কি মানুষ কোনোটিরই পুরোপুরি হয় না, নাকি দুটিরই হয়ে ওঠে?
যদিও কেতকী এই প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর দেননি। তাঁর সাহিত্য শিখিয়েছে, সব বিষয়ের সরলীকরণ হয় না।
তাঁর কবিতার ক্ষেত্রেও বহুবাসের অনুভূতি ফিরে ফিরে এসেছে। ‘স্পেসিস আই ইনহেবিট’ (Spaces I Inhabit) নামটিই তাঁর সাহিত্যিক আত্মপরিচয়ের সংক্ষিপ্ত সূত্র।
কেতকীর দীর্ঘ কর্মজীবনে স্বীকৃতিও এসেছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৭ সালে আনন্দ পুরস্কার, সমকালীন বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ভুবনমোহিনী দাসী পদক, ২০০৯ সালে বাংলা সাহিত্যে স্টার আনন্দের পুরস্কার, পরে ২০১৬ সালে বুদ্ধদেব বসু স্মারক পুরস্কার এবং ২০২৩ সালে ভাষানগর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। কিন্তু পুরস্কারের তালিকা দিয়ে তাঁর গুরুত্ব মাপা যায় না।
কেতকীর গুরুত্ব অন্য জায়গায়। তিনি বাংলা সাহিত্যে এমন এক নারীকণ্ঠ তৈরি করেছিলেন, যে কণ্ঠ একই সঙ্গে অন্তরঙ্গ ও বৌদ্ধিক। একই সঙ্গে বাঙালি ও বিশ্বনাগরিক। একই সঙ্গে স্মৃতিময় ও অনুসন্ধিৎসু। তিনি দেখিয়েছিলেন, নিজের শিকড়ের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার অর্থ পৃথিবী থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া নয়। আবার পৃথিবীর নাগরিক হওয়ার অর্থ নিজের ভাষা ও স্মৃতিকে বিসর্জন দেওয়া নয়।
পাঠক হিসেবে কেতকীর কাছে আমার আজন্মঋণ। তিনি শিখিয়েছেন, একজন মানুষকে একটা পরিচয়ে আবদ্ধ থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমরা একাধিক পৃথিবী, একাধিক সংস্কৃতি, একাধিক ভাষা ও জীবনদর্শন নিয়ে বাঁচতে পারি। আর কখনো কখনো দুই পৃথিবীর মাঝখানের যে জায়গাটাকে আমরা এত দিন ‘মাঝখান’ বলে ভেবেছি, সেটাই হয়ে উঠতে পারে আমাদের নিজের জায়গা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>