বিজ্ঞাপন
গাজীপুর সাফারি পার্কের কর্মী ও দর্শনার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনায় দর্শনার্থীর পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মামলার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম।
ওসি জানান, দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। আসামি গ্রেফতার করা যায়নি। মামলায় ছয়জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে, অজ্ঞাত হিসেবে ১৫/২০জনের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
মামলায় নামীয় আসামীরা হলেন, চন্দন কুমার, মাসুদ রানা, ধনজয় ধনা, ফরহাদ, রবি ও শাহাদত। তারা সবাই গাজীপুর সাফারি পার্কের কর্মচারী।
এছাড়াও বন বিভাগের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের কর্মী ও দর্শনার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ চার দর্শনার্থী ও পার্কের দুই কর্মচারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় ছয়জনকে আসামী করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
আহতরা হলেন, রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকার সালমা হোসেন (৪৪), তার দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭), জারিফ (১৫) ও তাদের গাড়ি চালক মো. রাসেল (২৫)। পার্কের আউটসোর্সিং কর্মচারী মোমিন ও মাসুদ রানা নামের দুইজনও আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী দর্শনার্থী সালমা হোসেন জানান, দুই সন্তান আহনাফ ও জারিফকে নিয়ে শনিবার দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কে যান। পার্কের কোর সাফারির দর্শনার্থীদের বাসের ভেতর ময়লা ও আবর্জনা থাকায় তা পরিষ্কার করতে বলেন। এসময় পার্ক কর্তৃপক্ষ তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং স্টিলের রড দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে জারিফ, আহনাফ ও চালক রাসেলকে মারধর করেন। এসময় তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেন, মোবাইল ভাঙচুর করে ও নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারেক রহমান জানান, দর্শনার্থী বাসে ময়লা থাকাকে কেন্দ্র করে পার্কের এক কর্মচারীর সাথে বাগ্বিতণ্ডা তৈরি হয়। এসময় দর্শনার্থীর এক সন্তান ওই কর্মচারীকে মারধর করেন। পরে তাদের পরিদর্শন শেষে পার্ক অফিসে নিয়ে বসতে চাইলে তারা ফের উত্তেজিত হয়ে হামলায় করে। এতে পার্কের দুই কর্মচারী আহত হয়। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকী আরও তিনজন আহত হলেও চিকিৎসা নেওয়ার মত পরিস্থিতি হয়নি। তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, বন বিভাগের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পড়া দায়িত্বরত অবস্থায় মো. মমিন নামের একজন কর্মচারীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ওই নারী ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে বলেন, মো. মুমিন নামের একজন স্টাফকে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমাদের স্টাফকে আহত করার পর বাসে থাকা ওই পর্যটকদের পার্ক অফিসে আনা হয় আলোচনা করার জন্য। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের আউটসোর্সিং স্টাফ মো. ফরহাদ নামের একজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। আসামি গ্রেফতার করা যায়নি। মামলার প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিহাব খান/কেজে/এএসএম
বিজ্ঞাপন