বিজ্ঞাপন
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার জামিয়া রহমানিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের এক আবাসিক ছাত্রকে (১৩) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) কাউনিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আপোষ মীমাংসার কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষককে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল হাকিম (২৪) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।
কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ আইনের ধারায় মাদরাসা শিক্ষক আজিজুল হাকিমকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ, ভুক্তভোগী শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর জামিয়া রহমানিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক ছাত্ররা রাতের খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। মাদরাসার শিক্ষক আজিজুল হাকিম শরীর ম্যাসাজ করার জন্য রাতে ওই ছাত্রকে তার রুমে ডেকে আনেন। শরীর ম্যাসাজের এক পর্যায়ে ওই ছাত্রকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন আজিজুল হাকিম। বিষয়টি কাউকে যেন না বলে এজন্য ছাত্রটিকে ভয়ভীতিও দেখান আজিজুল। পরে ৭ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ছাত্রকে আবারও রুমে নিয়ে গিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করেন আজিজুল।
এসময় ওই ছাত্র কৌশলে রুম থেকে বের হয়ে মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি স্বজনদের জানায়। রাতেই স্বজনরা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন
না ফেরার দেশে স্ত্রী, ১১ মাসের সন্তানসহ হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন স্বামী
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির অভিভাককে আশ্বস্ত করেন যে, মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি শুনে সালিশ করা হবে। পরে আজিজুল হাকিমকে মাদরাসার পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে ফিরে যান শিক্ষকরা।
এদিকে, শালিসে বসার আগে মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসা থেকে পালিয়ে যান।
পরে ঘটনা জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, মাদরাসার আজিজুল হুজুর প্রায় রাতে রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে শরীর ম্যাসাজের নামে খারাপ কাজ করতে বলেন।
হুজুরের কথায় রাজি না হলে রড ও পাইপ দিয়ে মারপিট করতেন। সোমবার রাতে তাকে রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করেন। এ সময় টয়লেট যাওয়ার কথা বলে রুম থেকে বের হয়ে বাড়িতে পালিয়ে যাই।
এর আগেও খারাপ কাজ করেছেন হুজুর। ব্যাথা হলেও বাইরে কাউকে যেন না বলি সেজন্য ভয়ভীতি দেখাতেন বলেও জানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, এই মাদরাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে আগেও এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছিলো। কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতো। অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রকাশ্য শাস্তির দাবি জানান তারা।
অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদরাসার পরিচালকের ছেলে রায়হান জানান, ওই শিক্ষককে পালাতে তিনি সহযোগিতা করেননি। সকালে কীভাবে সবার অগোচরে পালিয়ে গিয়েছেন।
জিতু কবীর/এনএইচআর
বিজ্ঞাপন