জাতীয়

জুলেখা কি যৌবন ফিরে পেয়েছিলেন?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
মিশরের যে আজিজ ইউসুফকে (আ.) দাস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন এবং নিজের ছেলের মত লালন-পালন করেছিলেন, তার  স্ত্রী জুলেখা ইউসুফের (আ.) প্রেমে পড়ে যান যখন ইউসুফ যৌবনে পদার্পন করেন। জুলেখা ইউসুফের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু ইউসুফ (আ.) আল্লাহ তাআলার সাহায্যে নিজেকে পবিত্র রাখেন। আল্লাহ তাআলা জুলেখার প্ররোচনা ও ইউসুফের (আ.) নিজেকে পবিত্র রাখার ঘটনার বর্ণনায় বলেন, আর সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল, আমি তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম এবং এভাবেই আমি ইহসানকারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর যে নারীর ঘরে সে ছিল, সে তাকে কুপ্ররোচনা দিল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল আর বলল, ‘এসো’। সে বলল, আল্লাহর আশ্রয় চাই। নিশ্চয় তিনি আমার মনিব, তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয় জালিমরা সফল হয় না। আর ওই নারী তার প্রতি আসক্ত হল আর সেও তার প্রতি আসক্ত হত যদি তার প্রতিপালকের নিদর্শন না দেখত। আমি তা দেখিয়েছিলাম তাকে অসৎ কাজ ও নির্লজ্জতা থেকে সরিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে, সে ছিল বিশুদ্ধ-হৃদয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। (২২-২৪) পরবর্তীতে জুলেখার চক্রান্তে ইউসুফ (আ.) কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন এবং বেশ কয়েক বছর কারাগারে কাটান। তারপর আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে ইউসুফ (আ.) মিশরের কারাগার থেকে মুক্ত হন। জুলেখাও স্বীকার করেন, ইউসুফের কোনো দোষ ছিল না, বরং তিনিই তাকে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। আরও পড়ুন ইউসুফ (আ.) মিশরের মন্ত্রী নাকি বাদশাহ ছিলেন? আল্লাহ তাআলা বলেন, বাদশাহ বলল, তোমরা যখন ইউসুফকে কুপ্ররোচনা দিয়েছিলে তখন তোমাদের কী হয়েছিল? তারা বলল, মহিমা আল্লাহর! আমরা তার ব্যাপারে খারাপ কিছু জানি না। আজিজের স্ত্রী বলল, এখন সত্য প্রকাশ পেয়েছে, আমিই তাকে কুপ্ররোচনা দিয়েছি। আর নিশ্চয় সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা ইউসুফ: ৫১) কোরআনে ইউসুফ (আ.) ও জুলেখার কাহিনি এ পর্যন্তই বর্ণিত হয়েছে। জুলেখা তওবা করার পর যৌবন ফিরে পেয়েছিলেন বা ইউসুফ (আ.) জুলেখাকে বিয়ে করেছিলেন এ রকম কোনো তথ্য কোরআনে বর্ণিত হয়নি। কিছু ইসরাইলি বর্ণনায় এসেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর জুলেখা যখন বার্ধক্যে উপনীত, তখন ইউসুফের (আ.) দোয়ায় তিনি যৌবন ফিরে পেয়েছিলেন, ইউসুফের (আ.) সঙ্গে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাদের দুটি সন্তানও হয়েছিল। (তাফসিরে ইবনে আবি হাতেম: ৮ / ৩৯০) কিন্তু কোরআনে বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত কোনো হাদিসে এই ঘটনা পাওয়া যায় না। তাই আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না এই ঘটনা আসলেই ঘটেছিল কি না। ইসরাইলি বর্ণনা অর্থাৎ ইহুদি বা খৃষ্টানদের ধর্মীয় সূত্র থেকে পাওয়া কোনো ঘটনা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করার উপায় নেই যেহেতু তাদের কাছে সংরক্ষিত আসমানি কিতাবসহ ধর্মীয় কোনো উৎসই নির্ভরযোগ্য নয়; এগুলোতে মানুষের বানানো বহু কাহিনি ও বিবরণ ঢুকে গেছে। আরও পড়ুন ইউসুফের (আ.) পর মিশরে বনি ইসরাইলের ওপর নিপীড়ন শুরু হয় যেভাবে ওএফএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>