বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরপর বিস্ফোরণের শব্দে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ১১টার দিকে প্রথমে জগন্নাথ হলের সামনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ পর টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে আরও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সময় আশপাশে থাকা কেউ আহত হয়েছেন—এমন তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, তারা ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সহকারী প্রক্টরদের পাঠিয়েছেন। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।
প্রক্টর কার্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী দলের প্রধান ইউসুফ হারুন জানান, তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথ হলের সামনে বিস্ফোরণের সময় ওই সড়ক দিয়ে কোনো গাড়ি যেতে দেখা যায়নি। কেউ হয়তো জগন্নাথ হলের ওপর থেকে ককটেল ছুড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কের বিস্ফোরণ সম্পর্কে ইউসুফ হারুন জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তরা জানতে পেরেছেন, মোটরসাইকেলে করে এসে কেউ ককটেল ছুড়ে দিয়ে চলে গেছে। তবে এ তথ্যও তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। কারা বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত এবং দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীস পালও বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটু আগে ককটেল ফাটানো হয়েছে, আমি নিজেও শব্দ শুনেছি।’
তিনি বলেন, হলের দারোয়ান তাকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি হলের মূল গেটের বাইরের সড়কে ঘটেছে। ঘটনার পর হলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া কোনো বহিরাগতকে হলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হাউস টিউটরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ঘটনাটি রাস্তার ওপর হওয়ায় এবং দারোয়ানরা হলের ভেতরে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা জানা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন। জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরটি/কেএইচকে
বিজ্ঞাপন