জাতীয়

দ্রুত খাবার খাওয়ার পেছনে যেসব মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একসঙ্গে খেতে বসলে দেখা যায় কারো প্লেটে অর্ধেক খাবার রয়েছে, অথচ পাশের জনের খাবার প্রায় শেষ। এমন মানুষও আছেন, যারা খাবার খাওয়ার সময় খুব একটা বিরতি নিতে পছন্দ করেন না। কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্লেট খালি করে ফেলেন। ব্যস্ত জীবনযাপন, অফিসের অল্প সময়ের লাঞ্চব্রেক কিংবা ছোটবেলা থেকে তৈরি হওয়া অভ্যাস-দ্রুত খাওয়ার পেছনে থাকতে পারে নানা কারণ। তবে মনোবিজ্ঞানের কিছু গবেষণায় খাওয়ার গতি এবং মানুষের কিছু আচরণগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা উঠে এসেছে। এর অর্থ অবশ্যই এমন নয় যে, কেউ দ্রুত খাবার খেলেই তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া যাবে। মানুষের ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি জটিল এবং একটি মাত্র অভ্যাস দিয়ে তা বিচার করা সম্ভব নয়। তবু দ্রুত খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে কিছু প্রবণতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কাজ শেষ করার তাগিদ বেশি থাকতে পারে দ্রুত খাওয়া মানুষের অনেকেই কাজ দ্রুত শেষ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কোনো কাজ হাতে নিলে সেটি শেষ করে পরবর্তী কাজে চলে যাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো কাজেও সময় বাঁচানোর চেষ্টা করেন তারা। ফলে খাবারও কখনো কখনো উপভোগের আলাদা সময় না হয়ে দিনের আরেকটি কাজ হিসেবে মনে হতে পারে। তবে এই বৈশিষ্ট্যকে সবসময় উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা সাফল্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যায় না। ব্যক্তির পরিবেশ, কাজের ধরন এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অপেক্ষা করতে ভালো নাও লাগতে পারে দ্রুত খাওয়ার সঙ্গে জীবনের দ্রুত গতি পছন্দ করার একটা সম্পর্ক থাকতে পারে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, ধীরগতির মিটিং কিংবা অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা অনেকের কাছেই বিরক্তিকর মনে হয়। তাদের স্বাভাবিক গতির তুলনায় অন্য কিছু ধীর মনে হলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তবে কাউকে শুধু দ্রুত খেতে দেখে ‘অধৈর্য’ বলে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। কেউ হয়তো সারা জীবন এমন পরিবেশে খেয়েছেন, যেখানে দ্রুত খাবার শেষ করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। খাবারের সময়ও অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন দ্রুত খাওয়া মানুষের মধ্যে কেউ কেউ খাবারের সময়ও ফোন দেখা, ই-মেইলের উত্তর দেওয়া কিংবা অফিসের কাজ চালিয়ে যেতে অভ্যস্ত। ফলে খাবারের দিকে মনোযোগ কমে যায়। ক্ষুধা, স্বাদ ও পেট ভরে যাওয়ার সংকেত বোঝার বদলে তারা কখন খাবার শেষ হবে, সেদিকেই বেশি মন দেন। এ ধরনের ‘বিভ্রান্ত হয়ে খাওয়া’ অভ্যাস ধীরে ধীরে খাবারের সঙ্গে সচেতন সম্পর্ক কমিয়ে দিতে পারে। মানসিক চাপও দায়ী হতে পারে অতিরিক্ত কাজের চাপ, উদ্বেগ কিংবা সারাক্ষণ সময়ের তাড়ায় থাকার অভ্যাস খাওয়ার গতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। দিনের প্রতিটি কাজ দ্রুত শেষ করার অভ্যাস তৈরি হলে খাবারের সময়ও সেই তাড়াহুড়া চলে আসতে পারে। তখন ব্যক্তি সচেতনভাবে দ্রুত খাওয়ার সিদ্ধান্ত না নিলেও অভ্যাসবশত তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করে ফেলেন।আবার কারো অতীতের খাদ্যসংকট, কঠোর ডায়েট বা পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও খাওয়ার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। খাবার দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে-এমন অবচেতন আশঙ্কা থেকেও কেউ দ্রুত খেতে পারেন। আবেগের সঙ্গেও থাকতে পারে সম্পর্ক রাগ, হতাশা, একাকীত্ব বা মানসিক অস্বস্তির সময় কিছু মানুষ খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। কারো ক্ষেত্রে তখন দ্রুত এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে ঘটে না এবং এমন আচরণকে ব্যক্তিত্বের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হিসেবেও দেখা উচিত নয়। স্বাস্থ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দ্রুত খাওয়ার আরেকটি বিষয় হলো তৃপ্তির সংকেত। খাবার খাওয়ার পর পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। খুব দ্রুত খাবার খেলে সেই সংকেত স্পষ্ট হওয়ার আগেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন পেট খারাপ হলে যেসব খাবার খাবেন তাই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদেরা অনেক সময় সচেতনভাবে খাওয়ার পরামর্শ দেন। খাবারের সময় ফোন বা টিভির মতো বিভ্রান্তি কমিয়ে খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও পরিমাণের দিকে মনোযোগ দেওয়া ভালো। ধীরে খেলে খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার সুযোগও বাড়ে। আরও পড়ুন জ্বর হলে কি গোসল করা উচিত? মাঝে মাঝে ধীরে ধীরে খাবার খান, স্বাদ উপভোগ করুন এবং শরীর কখন তৃপ্ত হচ্ছে, সেই সংকেতটিও খেয়াল করুন। খাবারের সঙ্গে এই সচেতন সম্পর্ক শরীর ও মনের জন্যই হতে পারে একটি ভালো অভ্যাস। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মায়ো ক্লিনিক এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>