বিজ্ঞাপন
প্রেম ভাঙা বা দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমাপ্তি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা ধরনের মানসিক চাপ, হতাশা ও আবেগীয় অস্থিরতা। এমন পরিস্থিতির প্রভাব অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মক্ষেত্রেও পৌঁছে যায়। মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, কমে যেতে পারে কাজের আগ্রহ ও উৎপাদনশীলতা।
কর্মীদের এমন কঠিন সময়ে কিছুটা স্বস্তি দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের বেঙ্গালুরুভিত্তিক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান স্টকগ্রো। ২০২৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে ‘ব্রেকআপ লিভ’ বা বিচ্ছেদকালীন ছুটির ব্যবস্থা।
বিচ্ছেদের পর মানসিক স্বস্তির গুরুত্ব অনেক
বিচ্ছেদের পর মিলবে সাত দিনের ছুটি
স্টকগ্রোর নীতিমালা অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে কিংবা বৈবাহিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটলে কর্মীরা একটানা সাত দিনের বেতনসহ ছুটি নিতে পারবেন। অর্থাৎ ব্যক্তিগত জীবনের এমন কঠিন সময়ে কর্মীকে কিছুটা সময় দেওয়া হবে, যাতে তিনি মানসিকভাবে নিজেকে সামলে নিতে পারেন।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, ছুটি নেওয়ার জন্য কর্মীকে বিচ্ছেদের কোনো প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে না। সম্পর্ক ভেঙেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো নথি দেখানোর প্রয়োজন নেই। কর্মী শুধু প্রতিষ্ঠানকে জানাবেন যে তিনি এমন একটি মানসিক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং কিছুটা বিরতি প্রয়োজন। এরপরই ছুটির আবেদন করতে পারবেন।
ব্যক্তিগত কষ্টের প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও
সম্পর্কের ভাঙন মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে অনেকের মধ্যে হতাশা, মন খারাপ, উদ্বেগ কিংবা একাকিত্ব তৈরি হতে পারে। দৈনন্দিন কাজেও তখন মন বসানো কঠিন হয়ে যায়।
কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে। কমে যেতে পারে মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিংবা কাজ শেষ করার গতি। সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রাখতেও অনেকের সমস্যা হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত জীবনের সংকট ধীরে ধীরে কর্মজীবনের ওপরও চাপ তৈরি করে। এই জায়গা থেকেই স্টকগ্রোর এমন ছুটির নীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছুটি শুধু বিশ্রামের জন্য নয়
সাধারণ ছুটি যেখানে শারীরিক বিশ্রাম বা ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ দেয়, বিচ্ছেদকালীন ছুটির ধারণাটি কিছুটা ভিন্ন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মীকে মানসিকভাবে কঠিন একটি পরিস্থিতি সামলানোর জন্য সময় দেওয়া।
একটানা কয়েকটি দিন কর্মক্ষেত্রের চাপ থেকে দূরে থাকা কাউকে নিজের আবেগ গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে পারে। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়ার সময়ও পাওয়া যেতে পারে। এরপর কর্মী কিছুটা স্থির হয়ে কাজে ফিরতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা
স্টকগ্রোর এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, কর্মীদের শুধু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতার অংশ হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করার একটি দৃষ্টান্ত এটি।
তাদের মতে, একজন কর্মীর ব্যক্তিগত জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন ঘটলে তার প্রভাব কর্মক্ষেত্রে পড়তেই পারে। সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করে প্রয়োজনীয় বিরতি দেওয়ার সংস্কৃতি কর্মীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে।
আরও পড়ুন
ভয়াবহ খবর দেখলে মনের ওপর কতটা চাপ ফেলে জানেন?
ভবিষ্যতে বদলাতে পারে কর্মক্ষেত্রের ভাবনা
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রেও কর্মীদের আবেগীয় সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সেই ধারায় বিচ্ছেদকালীন ছুটির মতো উদ্যোগ হয়তো ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠানে দেখা যেতে পারে।
আরও পড়ুন
বিপদে মানুষকে সাহায্য না করে অনেকে ভিডিও কেন করেন
কারণ কর্মীকে কঠিন সময়ে কিছুটা সময় দেওয়া মানেই শুধু ছুটি দেওয়া নয়। বরং তাকে নিজের মানসিক অবস্থাকে সামলে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া। আর ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় সামলে একজন কর্মী যখন স্বস্তি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারেন, তখন তার সুফল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান- দুই পক্ষের জন্যই ইতিবাচক হতে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন