জাতীয়

বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়াউল

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
র‍্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা লোকদের গুলি করতেন জিয়াউল আহসান। কোনো বন্দিকে একবার, কাউকে দুইবার গুলি করা হতো। এরপর তার গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা হতো এবং মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। আব্বাস মল্লিক জানান, বন্দিদের পেট কেটে দেওয়া ও মাথায় গুলি করার কারণে নাড়িভুঁড়ি ও মস্তিষ্ক বেরিয়ে আসতো এবং শরীর থেকে রক্ত পড়তো। এ কারণেই বোট ধোয়ার প্রয়োজন হতো। এরপর বোট ধুয়ে তারা চর দুয়ানীর বরফ মিলে ফিরে আসতেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ -এ গুমের অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মামলায় জবানবন্দি দেন রাষ্ট্রপক্ষের এ সাক্ষী। আব্বাস মল্লিক দাবি করেন, ২০১০ সালে র‍্যাবের অভিযানের সময় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা বন্দিদের নৌকায় করে গভীর নদীতে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। পরে তাদের মরদেহ পানিতে ফেলে দেওয়া হতো। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসান সরাসরি অংশ নিতেন। আমার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিক, যিনি র‍্যাবের সঙ্গে নৌযান চালানোর কাজে যুক্ত ছিলেন- ২০১১ সালে র‍্যাবের পরিচয়ে ফোন পাওয়ার পর বের হয়ে নিখোঁজ হন। এ নিখোঁজের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিচার দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন প্রসিকিউশন / ইলিয়াস আলীকে ‘দ্বিতীয় চেষ্টায়’ জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে অপহরণ আব্বাস মল্লিক জবানবন্দিতে বলেন, আমার বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চর দুয়ানী গ্রামে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে আমি মেজো। বড় ভাই সোহরাব মল্লিক এবং ছোট ভাই আলকাছ মল্লিক। আলকাছ কিছুটা লেখাপড়া জানতেন। প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে তিনি সৌদি আরবে যান এবং সেখানে ছয়-সাত বছর কাজ করার পর চর দুয়ানীতে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দুটি মাছ ধরার ট্রলার বা বোট তৈরি করেন। একটি আব্বাসের দায়িত্বে এবং অন্যটি জলিল মাঝির দায়িত্বে দেন। আলকাছও মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে নদীতে মাছ ধরতে যেতেন। আব্বাস বলেন, ২০১০ সালে র‍্যাব সদস্যদের চর দুয়ানী ও কাঠালতলী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তারা বোট মালিকদের ডেকে অভিযানের জন্য ট্রলার বা বোট দিতে বলতেন। যেদিন র‍্যাব সদস্যরা এলাকায় আসতেন, প্রথমে বিকেলে সাদা পোশাকে দুজন র‍্যাব সদস্য এলাকায় আসতেন এবং দোকান মালিকদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ ও বাতি নিভিয়ে রাখতে বলতেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ১১টা বা ১২টার দিকে চার-পাঁচটি মাইক্রোবাস এসে বরফ মিলের সামনে থামত। সেখান থেকে হাত ও চোখ বাঁধা বন্দিদের নৌকায় তোলা হতো। এসব বন্দিকে ঢাকা থেকে আনা হতো। বন্দিদের সঙ্গে সিমেন্টের বস্তা, রশি ও হোগলা নেওয়া হতো রিয়াজের দোকান থেকে। এরপর মাঝিদের নৌকা চালিয়ে চর দুয়ানী হয়ে বলেশ্বর নদীতে যেতে বলা হতো। সেখান থেকে আরও গভীর পানিতে যেতে বলা হতো এবং প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা নৌকা চালিয়ে তারা গভীর পানিতে পৌঁছাতেন। আব্বাসের ভাষ্য, গভীর পানিতে পৌঁছানোর পর নৌকার নিচের অংশ, যাকে তারা খোন্দা বলেন এবং ওপরের ছাউনিযুক্ত ঘর বা ব্রিজ থেকে বন্দিদের বের করে আনা হতো। নৌকার দুই পাশে থাকা সাপোর্ট অংশের ওপর একজন বন্দিকে বসানো হতো এবং দুই র‍্যাব সদস্য তাকে চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান ওই বন্দির মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন। গুলিতে নিহত ব্যক্তির গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা হতো এবং মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। এভাবে একের পর এক বন্দিকে হত্যার পর তারা সুন্দরবনের দিকে যেতেন। আরও পড়ুন তনু হত্যা: দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ সুন্দরবনে গিয়ে নৌকায় তখনো থাকা অন্য বন্দিদের নৌকা থেকে নামিয়ে নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হতো বলে দাবি করেন আব্বাস। এরপর র‍্যাব সাংবাদিকদের ফোন করে ডেকে আনতো এবং এখানে হত্যা করা মরদেহ বিভিন্ন থানায় জমা দেওয়া হতো। এরপর বোট ধুয়ে তারা চর দুয়ানীর বরফ মিলে ফিরে আসতেন। আব্বাস দাবি করেন, বন্দিদের পেট কেটে দেওয়ার কারণে নাড়িভুঁড়ি ও মস্তিষ্ক বেরিয়ে আসতো এবং শরীর থেকে রক্ত পড়তো। এ কারণেই বোট ধোয়ার প্রয়োজন হতো। ফিরে আসার পর আরেক কর্মকর্তা মেজর সাব্বির মাঝিদের বলতেন- তোমাদের জিয়া স্যার ডাকেন। এরপর মাঝিরা জিয়াউল আহসানের কাছে গেলে তিনি প্রত্যেককে কখনো দুই হাজার, কখনো পাঁচ হাজার টাকা দিতেন। আব্বাসের দাবি, টাকা খামে করে দেওয়া হতো। নিজের ছোট ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে আব্বাস বলেন, আমার ছোট ভাই র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। ২০১১ সালের মাঝামাঝি কোনো একদিন র‍্যাব তাকে ফোন করে ডাকে। ফোনে বলা হয়, জিয়া স্যার তোমাকে বটতলা মানিকখালী আসতে বলেছেন। আব্বাস দাবি করেন, র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে তার ছোট ভাই বাজারে আলোচনা করতেন। এ কারণে অন্য বোট মালিকরা তাকে বলতেন- র‍্যাব তোমার ওপর খুব ক্ষ্যাপা। র‌্যাবের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা আলকাছকে খুঁজতে শুরু করেন এবং থানায় যান। থানার লোকজন তাদের নিজেদের খুঁজে দেখতে বলেন। পরে তারা খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকা র‍্যাব অফিসে গিয়ে আলকাছের সন্ধান করেন। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি শেষে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও সাহিদুর রহমান সাক্ষী আব্বাস মল্লিককে জেরা করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও তাসমিরুল ইসলাম। এফএইচ/কেএসআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>