বিজ্ঞাপন
ফ্র্যাঞ্চাইজির পর খেলোয়াড়, বিপিএল নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গেই সভায় বসেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দুই পক্ষই বিসিবির বিপিএল সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এক বছর বিরতি দিয়ে বিপিএল করলে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন ক্রিকেটাররা।
রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে দুপুর ৩টায় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বিপিএল নিয়ে মিটিংয়ে বসে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। সেখানে ছিলেন কোয়াবের সেন্ট্রাল কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ছাড়াও মুশফিকুর রহিম, মেহেদি হাসান মিরাজ, সাইফ হাসান, নাসির হোসেন, মার্শাল আইয়ুব, এনামুল হক বিজয়, ইয়াসির আলি চৌধুরি, ফজলে মাহমুদ রাব্বিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটাররা।
বিসিবির হয়ে সভাপতি তামিম ইকবাল ছাড়াও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা, ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু, নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে কোয়াবের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। এ সময়ে বিপিএল নিয়ে বিসিবির সঙ্গে কোয়াবের আলোচনার সারাংশ তুলে ধরেন তিনি। ইয়াসির, ফজলে রাব্বি, মার্শাল আইয়ুব, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধরাও তার পাশে ছিলেন তখন।
কয়েকদিন আগেই গেলো দুই আসরে ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে এবার বিপিএল আয়োজন না করে সংস্কারের কথা জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। গতকাল তিন ফ্র্যাঞ্চাইজিও বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে একই মত দিয়েছে। এবার ক্রিকেটাররাও একমত হলেন, তাদের চাওয়া আর্থিক ক্ষতি যেন পুষিয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাসির বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে ছিল এবং এখনও আছে। আমরা কথা বলেছি, কেন এবার বিপিএল হচ্ছে না। বোর্ড সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। বোর্ড আমাদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছে, তাতে এটা মোটামুটি নিশ্চিত এবার বিপিএল হচ্ছে না। বিপিএল না হলে খেলোয়াড়রা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই বিপিএলের জায়গায় কী করলে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হয় এবং ক্রিকেট বোর্ড কী করতে পারে, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খেলোয়াড়রা কিভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, তা নিয়েই আলোচনা চলছে।’
প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনের সময় বরাদ্ধ রাখা হয়। ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট আয়োজন না হলে এই সময়ে বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে কোয়াব।
নাসির বলেন, ‘আমরা তো বিভিন্ন সংস্করণের খেলায় ব্যস্ত থাকবই। তবে বিপিএলের জন্য নির্ধারিত দেড় মাসে যদি অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যেত, তবে খুব ভালো হতো। এমন টুর্নামেন্ট হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী সভায় বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।’
এই টুর্নামেন্টের দাবি শুধু ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নয়। বরং, এখান থেকে ক্রিকেটাররা যেন আর্থিকভাবে লাভবান হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখার আহবান ছিল ক্রিকেটারদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে। সভায় কোয়াব ও বিসিবি দুই পক্ষই নিজেদের প্রস্তাবনা দিয়েছে। কোয়াব আশা করছে আগামী সভায় এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
নাসির বলেন, ‘তারা (বিসিবি) কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, আমাদের পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি। হয়তো আরও দু-একবার বসতে হবে। তবে যতটুকু আলোচনা হয়েছে, খেলোয়াড়রা তাতে মোটামুটি সন্তুষ্ট। খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছে। আশা করি পরবর্তী সভায় সুন্দর সমাধান আসবে।’
বিপিএল ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বিসিবি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বাৎসরিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, ‘একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকলে ক্রিকেটারদের জন্য অনেক সুবিধা হয়। কোন মাসে কী খেলা বা টুর্নামেন্ট থাকবে, তা আগে থেকেই জানা যাবে। এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে সব খেলোয়াড়ই স্বাগত জানাবে।’
এসকেডি/আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন