বিজ্ঞাপন
সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জে গত আগস্ট মাসে ৪ হাজার ২৫টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিভাগীয় সদর দপ্তরে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, মামলা ও জরিমানা আদায় ছাড়াও গত আগস্টে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ট্রাফিক আইনভঙ্গ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ৭২০টি যানবাহন আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ৪টি মাইক্রোবাস এবং ৬৯৩টি মোটরসাইকেল রয়েছে।
আরও পড়ুন
রাজবাড়ীতে ১০৩ লেভেলক্রসিং ঝুঁকিতে, ৮ মাসে ৬৮ মৃত্যু
রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এতে সভাপতিত্ব করেন। মাসিক এ সভায় রংপুর বিভাগের আট জেলার অপরাধ পরিস্থিতি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং জননিরাপত্তাসহ সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এসময় রংপুর বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপারগণসহ রেঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে জানানো হয়, আট জেলায় এক মাসে সর্বমোট ১ হাজার ৯২৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চুরির মামলা ১০৫টি।মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আগস্টে বিভাগে মোট ৪৯৭টি মাদক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ৬৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া, মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে ২২২.৫ কেজি গাঁজা, ১২১ বোতল ফেনসিডিল, ২১ হাজার ৫১৪ পিস ইয়াবা এবং ২৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।
সভায় সার সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, রংপুর বিভাগের কোনো এলাকায় অবৈধভাবে সার মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্য কারসাজি কিংবা অবৈধভাবে সার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এসময় মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা সার নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বরদাশত করা হবে না জানিয়ে অবৈধ মজুত ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
তিনি প্রত্যেক জেলার পুলিশ সুপারকে সারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। রংপুর রেঞ্জ পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।
পরে গত আগস্ট মাসের সামগ্রিক কর্মমূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার’ হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনকে পুরস্কার ও স্বীকৃতি স্মারক প্রদান করা হয়।
জিতু কবীর/এনএইচআর
বিজ্ঞাপন