বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার নেশায় নিজের শিশু বোনকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগে মেহেদী হাসান সিয়াম (২০) নামের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। তার ভাইরাল ভিডিওর সমালোচনায় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে এক লাইভে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুই দিন পরপর একটা আইন বাইর হবে যে বোনকেও চুমা দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশে এখন বোনকেও কিস করতে পারবো না।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে খলিলপুর এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে। আটক মেহেদী হাসান ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের খলিলপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশু বোন (৫) স্থানীয় একটি মাদরাসায় শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে লোকজন রিপোর্ট করার কারণে ওই ভিডিওটি সরিয়ে নেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। পরে ২৩ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের আরেকটি ভিডিও আপলোড আপলোড হয়। সেখানে দেখা যায়, এক তরুণ একটি শিশুকে কোলে নিয়ে আপত্তিকর আচরণ করছেন। ওই ভিডিওটি মুহূর্তেই ফেসবুকে ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে।
সিয়াম তার ফেসবুক পেজ ও টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালের মার্চে তিনি তিনি ফেসবুক পেজটি খোলেন। এরপর থেকে নানান ধরনের বিকৃত ও রুচিহীন ভিডিও আপলোড করতে থাকেন। এই ফেসবুক পেজে তিনি এ ধরনের শতাধিক মানহীন কনটেন্ট আপলোড করেছেন। একইসঙ্গে তার টিকটক আইডিতেও অন্তত ১৫৭ টি এমন মানহীন ভিডিও এডিটি করে আপলোড করেন। এসব ভিডিওতে তিনি নারী, শিশু ও যৌনতা নিয়ে নানা ধরনের অপতথ্য ও বিকৃত উপস্থাপনা করেন।
তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক পেজ ও টিকটক আইডি ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময় ১৫৭ টির বেশি ভিডিও কনটেন্ট আপলোড করলেও এসবের ভিউ চারশো থেকে পাঁচশর মধ্যে। তবে কিছু কিছু ভিডিও কয়েক হাজার ভিউ হয়েছে। তবে ওই ভিডিওটি আপলোড করার পরই রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। শুধু টিকটকেই ভিডিওটি ১৬ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।
ফেসবুকে এ ভিডিও নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা হলে নিজের ফেসবুক পেজে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে লাইভে আসেন তিনি। ৫১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ওই লাইভে তিনি বলেন, আমার লাইভে ভিউ আসে না। তবুও প্রমাণ হিসেবে লাইভটা রেখে দিচ্ছি। আমি একটা বাচ্চা মেয়েকে চুমা দিছি। ওর গালটা অনেক সেনসেটিভ। তাই লাল হয়ে গেছে।
তিনি ওই লাইভে আরও বলেন,বাংলাদেশে দুই দিন পরপর একটা আইন বাইর হবে যে বোনকেও চুমা দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশে এখন বোনকেও কিস করতে পারবো না। লাইভের বিভিন্ন অংশে তিনি ইংরেজি ভাষায় বাংলাদেশ ও দেশের মানুষকে গালমন্দ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,মেহেদী হাসান মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে থাকতেন। কিছুদিন আগে দেশে এসেছেন।
মেহেদী হাসানের বাবা মাহবুবুর রহমান টিপলু বলেন, কী বলবো, বুঝতে পারছি না। ও টিকটকে এসব কী করেছে আমি ঠিক জানি না। পুলিশ আসার পর সব জানতে পেরেছি। ওরা দুইজনই তো আমার ছেলে-মেয়ে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। আমি লজ্জিত।
তিনি আরও বলেন,আমার ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করেছিল। জরিমানা দিয়ে ছেলেকে মুক্ত করে বাড়িতে নিয়ে এসেছি।
ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, বর্তমানে দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে রাতারাতি ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ প্রবণতা রোগের পযায়ে চলে গেছে। এটা সুস্থতার কোনো প্রতিচ্ছবি হতে পারে না। আমাদের বিভ্রান্ত তারুণ্যকে আমাদের নিজেদের উদ্যোগে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যেতে হবে। এজন্য সবার আগে প্রয়োজন রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থা করা।
এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিরামন বিশ্বাস বলেন, ওই ভিডিওতে অশ্লীল কিছু পাওয়া যায়নি। তারা দুইজন আপন ভাই বোন। তবে, বিষয়টি দৃষ্টিকটু দেখা গেছে।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত সিয়ামকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে তারা আপন ভাই-বোন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বলেন, ওই যুবককে পাবলিক নুইসেন্স করার অভিযোগে পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় অভিযুক্ত করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এন কে বি নয়ন/এএমএ
বিজ্ঞাপন