বিজ্ঞাপন
করিম বেনজেমার আল হিলাল অধ্যায় কি এত দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে? মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সৌদি ক্লাবটিতে থাকার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বললেও এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। আল হিলালের একের পর এক বড় অঙ্কের চুক্তিতে দলে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জায়গা হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন ফরাসি তারকা। ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পথেও নাকি অনেকটাই এগিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
গত ২১ আগস্ট আল ফায়হার বিপক্ষে আল হিলালের ৩-০ গোলের জয়ের পর বেনজেমা বলেছিলেন, ‘আমি আল হিলালেই থাকব।’ কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সৌদি ক্লাবটির নতুন দল সাজানোর পরিকল্পনায় বেনজেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
২০৫ মিলিয়ন ইউরোর দলবদলে বিপাকে বেনজেমা
সিমোনে ইনজাঘির অধীনে আল হিলাল এবার বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করে দল শক্তিশালী করেছে। নতুন খেলোয়াড় কিনতে এখন পর্যন্ত তাদের ব্যয় প্রায় ২০৫.৮৭ মিলিয়ন ইউরো।
ওয়েস্ট হ্যাম থেকে ক্রিসেনসিও সামারভিলকে আনতে খরচ হয়েছে ৬৪.৫ মিলিয়ন ইউরো। এরপর অ্যাস্টন ভিলার ফরোয়ার্ড অলি ওয়াটকিন্সের জন্য ব্যয় করেছে ৫৮.৪ মিলিয়ন ইউরো। আর আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলিকে দলে ভেড়াতে আরও প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে যাচ্ছে ক্লাবটি।
এর বাইরে মোহাম্মদ মাহজারির জন্য ৭.৬৭ মিলিয়ন, মোহাম্মদ আল সারনুখের জন্য ৩ মিলিয়ন এবং সাবরি দাহালের জন্য ২.৩ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করেছে আল হিলাল। মোহাম্মদ আল ওভাইস ও আবদুল্লাহ আল আনাজিকেও ফ্রি ট্রান্সফারে দলে নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে আক্রমণভাগে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যাও বেড়েছে। আর সেখানেই সমস্যায় পড়েছেন বেনজেমা।
সৌদি লিগে জায়গাই থাকবে না?
সৌদি লিগের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি খেলোয়াড়ের নিবন্ধনসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে আল হিলালের নতুন সাইনিং ও বর্তমান বিদেশিদের তালিকা বেনজেমার জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামারভিল, ওয়াটকিন্স ও মার্টিনেলির সঙ্গে আল হিলালে আছেন আরও আট বিদেশি খেলোয়াড়- ইয়াসিন বুনু, ইউসুফ আকচিচেক, কালিদু কুলিবালি, থিও হার্নান্দেজ, রুবেন নেভেস, সের্গেই মিলিনকোভিচ-সাভিচ, সাইমন বুয়াব্রে ও কাদের মেইতে।
এই পরিস্থিতিতে বেনজেমাকে সৌদি প্রো লিগের স্কোয়াডে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ফলে তাকে বাদ পড়তে হলে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগ থাকলেও ঘরোয়া লিগে আর দেখা নাও যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি থেকেই আল হিলাল ও বেনজেমার মধ্যে চুক্তি বাতিলের আলোচনা শুরু হয়েছে।
চুক্তি শেষ হওয়ার পথে
বেনজেমার সঙ্গে আল হিলালের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু তার আগেই দুই পক্ষ চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে খবর।
চুক্তি শেষ হলে বেনজেমার সামনে বেশ কয়েকটি পথ খোলা থাকবে। তিনি সৌদি আরবেই থেকে যেতে পারেন, অন্য কোনো ক্লাবে যোগ দিতে পারেন কিংবা সরাসরি ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন।
সৌদি লিগে ২০৩০ সাল পর্যন্ত তার আরেকটি চুক্তির বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। সেই কারণে আল শাবাবে যোগ দেওয়া কিংবা পুরোনো ক্লাব আল ইত্তিহাদে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
বেনজেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- তিনি কি আবার ইউরোপিয়ান ফুটবলে ফিরবেন? ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানো অবশ্য সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, বেনজেমা শিগগিরই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। সম্ভাব্য বিকল্পের মধ্যে রয়েছে অবসর নেওয়া অথবা সৌদি আরবের অন্য কোনো ক্লাবে খেলা। তবে ইউরোপে ফেরার সম্ভাবনা নেই।
এর অর্থ, শৈশবের ক্লাব অলিম্পিক লিওঁতে ফেরার দীর্ঘদিনের ইচ্ছাটিও হয়তো আর পূরণ হবে না। লিওঁ থেকেই পেশাদার ফুটবলে উঠে এসেছিলেন বেনজেমা এবং বহুবার ক্লাবটিতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অবসরও এখন সম্ভাবনার তালিকায়
৩৮ বছর বয়সে এসে অবসরের সিদ্ধান্তও বেনজেমার জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয়। শেষ পর্যন্ত যদি তিনি বুটজোড়া তুলে রাখেন, তাহলে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি ঘটবে বিশাল সব সংখ্যার পাশে।
লিওঁ, রিয়াল মাদ্রিদ, আল ইত্তিহাদ ও আল হিলাল—এই চার ক্লাবে মিলিয়ে বেনজেমা খেলেছেন ৮৯৫ ম্যাচ, করেছেন ৪৮৪ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ২০৫টি। ফ্রান্সের জার্সিতে তার রয়েছে ৯৭ ম্যাচে ৩৭ গোল।
বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদে কাটানো ১৪ বছর তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। ক্লাবটির হয়ে অসংখ্য শিরোপার পাশাপাশি ২০২২ সালে ব্যালন ডি\'অরও জেতেন তিনি।
তবে অবসরই একমাত্র পথ নয়। সৌদি আরবের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারেও (এমএলএস) তার যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অর্থাৎ বেনজেমার পরবর্তী গন্তব্য এখনো নিশ্চিত নয়। তবে আল হিলালের বিশাল অঙ্কের দলবদলের ভিড়ে তার জায়গা সংকুচিত হয়ে যাওয়া যে তার ভবিষ্যৎকে নতুন মোড়ে নিয়ে গেছে, সেটি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন