বিজ্ঞাপন
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে দেশের ও জনগণের স্বার্থে সব ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত। একই সঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলটি অবস্থান নেবে। তবে এ অবস্থান হবে অহিংস, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল। রাজপথের আন্দোলনও ‘নন-ভায়োলেন্ট’ রাখতে চান তারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনদুর্ভোগ এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন জামায়াত আমির।
বৈঠকে গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান আরও স্পষ্ট করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় নিয়ে কোনো দলের ভিন্নমত থাকলে তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করা উচিত। সংশ্লিষ্ট দলগুলো জনগণের রায় মেনে নেবে কি না, সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, জনদুর্ভোগ, সন্ত্রাস এবং সংকীর্ণ দলীয়করণসহ দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়।
গোলাম পরওয়ার জানান, জনমত গঠন ও জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন জামায়াত আমির। সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতের ত্রুটি-বিচ্যুতি খোলামেলাভাবে তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।
বৈঠকে টেলিভিশন খাতের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন কাঠামো ও ওয়েজ বোর্ডসহ বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন গণমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রিন্ট মিডিয়ার তুলনায় ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এসব সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলে তারা জানান।
এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রক্রিয়াগতভাবে আলোচনা এবং কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দলের আমির।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদক, হেড অব নিউজ ও প্রধান বার্তা সম্পাদকরা অংশ নেন।
এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলালসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন