বিজ্ঞাপন
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চ চলাকালে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বড় ধরনের পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেবেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লার পদুয়া বাজারের হোটেল নূরজাহানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ছয় দফা দাবিকে সামনে রেখে এ লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।
দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। তিনি জানান, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চে এক হাজারের বেশি যানবাহন অংশ নেবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
মহাসড়কের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন। কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোডে নূরজাহান হোটেল সংলগ্ন মাঠে বড় পরিসরে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেবেন। তিনি জানান, জাতীয় নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, এনসিপির চেয়ারম্যান ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে কুমিল্লার পথসভায় বিপুল জনসমাগম হবে। কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, পথসভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবে। আয়োজকেরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে নূরজাহান হোটেলের পূর্ব পাশে বিস্তৃত এলাকায় পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশস্থলের পশ্চিম পাশে পূর্বমুখী করে মঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা এবং ভিডিও ও ক্যামেরাম্যানদের জন্য আলাদা স্টেজ থাকবে। পথসভাস্থলে পর্যাপ্ত মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, বড় কর্মসূচিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে। গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের বিষয়গুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, লংমার্চ ও পথসভার মূল বক্তব্য, ছয় দফা দাবি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য যথাযথভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে বলে জানান কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
তিনি বলেন, লংমার্চের রুট, পথসভা ও কর্মসূচির বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে। সড়কে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা সোলাইমান, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তোফিক, ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন, এনসিপি কুমিল্লা মহানগরীর সদস্যসচিব মাসুমুল বারী কায়সার, এবি পার্টি কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি জিএস সামদানি, জাগপা কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি নজরুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন, মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা মু. খাইরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিজ্ঞাপন