বিজ্ঞাপন
বিএনপির সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যু নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, না কি এর পেছনে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল- এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, সাইফুর রহমানের মতো একজন অর্থনীতিবিদ, যিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে সভাটির আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, ‘সাইফুর রহমান ছিলেন জাতির সম্পদ এবং বিএনপির গৌরব। তার অর্জন দেশে-বিদেশে স্বীকৃত। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সাইফুর রহমানের এই দুর্ঘটনা কি নিছক দুর্ঘটনা? না কি এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে? এটিও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’
সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালুর সময় ব্যাপক সমালোচনা হলেও পরবর্তী সময়ে কেউ তা বাতিল করেননি। বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভ্যাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি জানান, সাইফুর রহমানের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল সুশৃঙ্খল। তখন ব্যাংক লুট, ব্যাপক অর্থপাচার কিংবা ব্যাংক থেকে সরকারের ঘাটতি বাজেট পূরণের মতো ঘটনা শোনা যায়নি। তার নীতি ও ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্ত অবস্থানে ছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনীতির ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার বন্ধ করেছিলেন। ব্যাংক লুট করে টাকা নিয়ে যাওয়ার যে লুটপাটতন্ত্র আমরা বিগত ১৭ বছর দেখেছি, তার সময়ে এসব শুনিনি।’
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সাইফুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে রিজভী জানান, উত্তরাঞ্চলের মৌসুমি অভাব তথা ‘মঙ্গা’ মোকাবিলায় তিনি বিকল্প কর্মসংস্থান ও কৃষি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন
রুহুল কবির রিজভী / তারেক রহমানকে বন্দি করা ছিল দেশি-বিদেশি চক্রান্তের যৌথ বহিঃপ্রকাশ
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে কৃষির অফ-সিজনে মানুষ ভ্যান, রিকশা, অটোরিকশা চালানোসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে পারে। এভাবেই বিএনপি দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব দিয়েছে।
তার মতে, সাইফুর রহমান শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সম্মানিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির গৌরব হচ্ছে সাইফুর রহমান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে তিনি তার মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি মজবুত জায়গায় প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।
সাইফুর রহমানের সামাজিক নিরাপত্তা ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর ধারণা তিনি সামনে এনেছিলেন।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, হেলথ কার্ড ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় রিজভী বলেন, ‘সাইফুর রহমানের বহুমাত্রিক অবদান আমাদের জানতে হবে। তার দেখানো পথ অনুসরণ করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং মরহুম এম সাইফুর রহমানের ছোট ছেলে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এ জি এম শামসুল হক, জাসাস সভাপতি চিত্রনায়ক হেলাল খান প্রমুখ।
কেএইচ/একিউএফ
বিজ্ঞাপন