ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা, শারীরিক হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ। সংগঠনটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ বিচারের দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ বলেছে, রাজনৈতিক অবস্থান, মতপ্রকাশ কিংবা গণ–আন্দোলনের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে কোনো শিল্পীকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার ওপর আঘাত।
বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে বাঁধন ও তাঁর সহশিল্পীরা ইতালিতে অবস্থান করছেন। তাদের ভাষ্য, হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাও ক্ষুণ্ন করেছে।
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের সময় অন্যায়, হত্যা, দমন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঁধনসহ দেশের অনেক শিল্পী নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, একজন শিল্পীর মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার অধিকার সবার আছে। তবে তাঁকে অপমান, ভয় দেখানো বা তাঁর ওপর হামলা করার অধিকার কারও নেই।
দৃশ্যমাধ্যম সমাজ বলেছে, ‘রাজনৈতিক মতের বিরোধিতা কখনো সহিংসতার লাইসেন্স হতে পারে না।’ একজন নারী শিল্পীর ওপর হামলা ও প্রকাশ্যে হেনস্তাকে তারা কোনো প্রতিবাদের ভাষা নয়, বরং সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বাঁধনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, ‘শিল্পীর শরীর কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ক্ষেত্র নয়, শিল্পীর কণ্ঠ কোনো ভয়ের কাছে জিম্মি নয়। মতের বিরুদ্ধে মত আসুক, যুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি আসুক; কিন্তু সহিংসতা নয়।’
বিবৃতিতে আনু মুহাম্মদ, সলিমুল্লাহ খান, সায়ান, মুহাম্মদ কাইউম, আকরাম খান, মনোজ প্রামানিক, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, তাজনূভা জাবীন, আয়মান আসিবসহ ১১২ জন স্বাক্ষর করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>