জাতীয়

স্থানীয় সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা বাতিল চায় পোশাক খাত

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বিদ্যমান বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠন দুটি বলেছে, গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে সিদ্ধান্ত নম্বর ৪-এর ‘ক’ ও ‘খ’-এ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নযোগ্য ও যুক্তিসংগত নয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত নং ৪-এর ‘ক’ তে ৩০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে ব্যাংক রেটের পরিবর্তে কার্ডিং রেট নির্ধারণ; ‘খ’ তে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ সুতা আমদানির সুযোগ প্রদান করার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ওই সভায় আমরা সুতার ৫০ শতাংশ স্থানীয় মিল এবং বাকি ৫০ শতাংশ আমদানির বিষয় আলোচনায় উত্থাপন করিনি। আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে হোঁচট বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সভায় পোশাকশিল্পের পক্ষ থেকে সুতার ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ এবং বাকি ৫০ শতাংশ আমদানির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ফলে সভার আলোচনার বাইরে থাকা বিষয় কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বন্ড ব্যবস্থা দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ যেখানে শিল্পের প্রসারের জন্য বন্ড সুবিধা ও বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে উল্টো ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যেতে পারে। স্থানীয়ভাবে ৫০ শতাংশ সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। তাদের দাবি, বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পে রপ্তানি আদেশ কম থাকায় বাজারে সুতার চাহিদাও কম। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করতে পারছে না। আরও পড়ুন বিজিবিএর বিবৃতি / নিট ফেব্রিক আমদানি বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত এ অবস্থায় স্থানীয় মিল থেকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা করা হলে পোশাক কারখানাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সুতা সংগ্রহ করতে সমস্যায় পড়বে বলে মনে করছে সংগঠন দুটি। তাদের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত ৪-এর ‘ক’ ও ‘খ’ বাস্তবায়ন হলে পোশাক উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে, সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে। এ কারণে সভার আলোচনার বাইরে নেওয়া সিদ্ধান্ত দুটি প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি। আইএইচও/ইএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>