বিজ্ঞাপন
তারকার জনপ্রিয়তার লড়াই কি এখন শুধু সিনেমার পর্দায়? অভিযোগ উঠছে, বলিউডে অর্থের বিনিময়ে পরিকল্পিত ট্রোলিং, ভুয়ো প্রচার এবং প্রতিপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার একটি চক্র সক্রিয়। ‘পেড ট্রোলিং’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থায় নাকি লক্ষ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আলিয়া ভট্ট, কৃতি সেনন, দীপিকা পাড়ুকোন, কার্তিক আরিয়ানসহ একাধিক তারকাকে ঘিরে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তারকাদের প্রচারে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অনলাইন রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট বা ORM এজেন্সি। সাধারণত তারকার ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি ও নেতিবাচক প্রচার সামলানোই তাদের কাজ। তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার আড়ালে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার জন্য ‘ট্রোল ফার্ম’ ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে চলে এই ‘ট্রোলিং’?
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার হয়ে একাধিক ভুয়ো বা কম-পরিচিত অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের পোস্ট, মন্তব্য কিংবা রিপোর্ট করা হয়। উদ্দেশ্য থাকে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে মনে হয় সাধারণ দর্শকরাই কোনও তারকার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। এই ধরনের ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার কৌশলকে বলা হয় ‘সকপাপেট্রি’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার এই প্রচারকে আরও দ্রুত ও সস্তা করেছে বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।
কত টাকা লাগে?
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনও অ্যাকাউন্টে ‘মাস রিপোর্টিং’-এর জন্য কয়েক হাজার টাকা থেকে খরচ শুরু হতে পারে। প্রায় এক হাজার পোস্ট ঘিরে প্রচারে খরচ হতে পারে প্রায় এক লাখ টাকা। আর দীর্ঘমেয়াদি ও বড় আকারের নেতিবাচক প্রচারের ক্ষেত্রে ব্যয় ৫০ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অর্থের পরিমাণের কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা নির্ভরযোগ্য হিসাব প্রকাশ্যে নেই।
সম্প্রতি আলিয়া ভট্টের ‘আলফা’ নিয়ে সমাজমাধ্যমে তাঁর অ্যাকশন-ইমেজ ও উচ্চতা নিয়ে ব্যাপক কটাক্ষ দেখা যায়। এর নেপথ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনও তারকার প্রচারসংস্থার ভূমিকা থাকতে পারে—এমন দাবি করা হলেও এর পক্ষে প্রকাশ্য কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কৃতি সেননের একটি বিজ্ঞাপন ঘিরেও তীব্র ট্রোলিংয়ের ঘটনা সামনে আসে। দীপিকা পাড়ুকোনের দৈনিক আট ঘণ্টা শুটিংয়ের পক্ষে অবস্থান এবং বরুণ ধবন ও রণবীর সিংহকে ঘিরেও পরিকল্পিত ট্রোলিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
কার্তিক আরিয়ানকে ঘিরে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ানোর ঘটনাও ‘পরিকল্পিত প্রচার’-এর উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। পরে ওই তরুণী নিজেই কার্তিককে চেনেন না বলে জানান।
শুধু প্রকাশ্য পোস্ট নয়, ইনবক্সেও হামলা
অভিনেত্রী দীয়া মির্জ়া জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ধর্ষণ ও খুনের হুমকিসহ নানা অশালীন বার্তার স্ক্রিনশট জমা রয়েছে। প্রিয়ঙ্কা বসুও সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারকাদের পরিবারকেও কখনও কখনও হুমকির মুখে পড়তে হয়। ফলে বিষয়টি শুধু ‘ট্রোলিং’ নয়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নেও গড়াতে পারে।
স্বতঃস্ফূর্ত দর্শক-সমালোচনা আর অর্থের বিনিময়ে তৈরি নেতিবাচক প্রচারের পার্থক্য করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত ট্রোলিং শুধু তারকার ভাবমূর্তিই নয়, দর্শকের মতামত, ছবির ব্যবসা এবং শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনও নির্দিষ্ট অভিনেতা, অভিনেত্রী বা তাঁদের PR সংস্থা ‘পেড ট্রোলিং’-এ যুক্ত—এমন দাবি প্রমাণিত তথ্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ফলে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র ও স্বাধীন প্রমাণ যাচাই করাই জরুরি।
শেষ কথা, অন্য তারকাকে নামিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর এই অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; বিনোদনজগতের সুস্থ প্রতিযোগিতার জন্যও বড় হুমকি।
সূত্র: আনন্দবাজার
বিজ্ঞাপন