সারাদেশ

শাড়ির যত্ন জানেন তো? কোন শাড়ি কীভাবে রাখলে বছরের পর বছর ভালো থাকবে

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
শাড়ি শুধু পোশাক নয়, অনেকের কাছেই এটি আবেগ ও স্মৃতির অংশ। মায়ের বেনারসি, ঠাকুমার চান্দেরি কিংবা পছন্দের জামদানি—বিশেষ দিনের জন্য তুলে রাখা শাড়ি যত্নের অভাবে একসময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পুজোর আগে নতুন শাড়ি কেনার পাশাপাশি পুরনোগুলোর যত্নও তাই জরুরি। তবে সব শাড়ির পরিচর্যার নিয়ম এক নয়। কাপড় ও বুনন অনুযায়ী বদলে যায় যত্নের ধরন। অনেক দামি শাড়ি বছরের পর বছর আলমারিতে তুলে রাখার পর দেখা যায়, ভাঁজের জায়গায় সুতো কেটে গেছে, রং মলিন হয়েছে কিংবা কাপড়ে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ ধরেছে। নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলে এসব সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। কোন শাড়ির কী যত্ন? কাঞ্জিভরম ও বেনারসি সিল্ক এই ধরনের শাড়ি বাড়িতে না ধুয়ে ড্রাই ক্লিন করানোই নিরাপদ। জরির অংশ যাতে ঘষা না খায়, সে জন্য শাড়ি ভাঁজ করার সময় জরি ভিতরের দিকে রাখুন। প্লাস্টিকের কভার বা হ্যাঙ্গারে না রেখে নরম সাদা সুতির কাপড়ে মুড়ে সমতল জায়গায় রাখুন। কয়েক মাস পরপর শাড়ি বের করে ভাঁজ বদলে দেওয়া ভালো। জরির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে পেশাদারের মাধ্যমে রোল পলিশ করানো যেতে পারে। ঢাকাই জামদানি জামদানির বুনন অত্যন্ত সূক্ষ্ম। তাই ড্রাই ক্লিন করানো তুলনামূলক নিরাপদ। শক্ত করে পাটে পাটে ভাঁজ না করে নরম সুতির কাপড়ে আলতো করে গুটিয়ে রাখা ভালো। দীর্ঘদিন একই ভাঁজে রাখলে সেই জায়গায় সুতো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তসর সিল্ক তসরের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ও টেক্সচার ধরে রাখতে বাড়িতে ধোয়ার ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। পরার পর কিছুক্ষণ বাতাসে মেলে রাখুন। সরাসরি রোদে না দেওয়াই ভালো, কারণ অতিরিক্ত রোদে রং ফ্যাকাশে হতে পারে। ইস্ত্রি করলে শাড়ির উপর পাতলা সুতির কাপড় রেখে কম তাপে ইস্ত্রি করুন। মটকা সিল্ক মটকা সিল্কের সুতো তুলনামূলক মোটা হলেও যত্নের প্রয়োজন রয়েছে। দাগ লাগলে ঘষাঘষি না করে শুকনো কাপড় বা টিস্যু দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে আর্দ্রতা শুষে নিন। শাড়ি নিঙড়ানো উচিত নয়। ড্রাই ক্লিন করানোই নিরাপদ। চান্দেরি চান্দেরি খুব হালকা ও সূক্ষ্ম হওয়ায় সহজেই কুঁচকে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাড়িতে ধুলে জোরে ঘষা বা নিঙড়ানো একেবারেই নয়। ইস্ত্রির সময় উল্টো পিঠে কম তাপ ব্যবহার করুন। হ্যাঙ্গারে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে না রেখে সমতলভাবে রাখাই ভালো। জর্জেট ও শিফন এই দুই ধরনের কাপড়ই হালকা ও নরম। তাই দীর্ঘদিন হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখলে কাপড়ের আকৃতি বদলে যেতে পারে। ভাঁজ করে রাখুন। বাড়িতে ধুলে মৃদু ডিটারজেন্ট ও ঠান্ডা জল ব্যবহার করুন। ইস্ত্রির সময় তাপমাত্রা কম রাখুন। কোটা শাড়ি কোটার জালের মতো সূক্ষ্ম বুনন সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রথম কয়েকবার ড্রাই ক্লিন করানো ভালো। পরে ধোয়ার প্রয়োজন হলে ঠান্ডা জলে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। ঘষাঘষি বা নিঙড়ানো নয়। কড়া রোদ এড়িয়ে ছায়ায় শুকিয়ে সুতির কভারে সংরক্ষণ করুন। তাঁতের শাড়ি তাঁতের শাড়ি ধোয়ার সময় ঠান্ডা জল ও মৃদু সাবান ব্যবহার করা ভালো। কড়া রোদে না শুকিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে সামান্য মাড় ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথমবার ধোয়ার আগে নুন-জলে ভিজিয়ে রাখার প্রচলন থাকলেও সব ধরনের তাঁতের শাড়ির ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ কি না, তা রং ও কাপড়ের ধরন অনুযায়ী যাচাই করা ভালো। অরগ্যাঞ্জা অরগ্যাঞ্জা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাপড়। ওয়াশিং মেশিনে না দিয়ে হাতে খুব সাবধানে পরিষ্কার করা ভালো। বেশি ঘষাঘষি করলে কাপড় ছিঁড়ে যেতে পারে। ইস্ত্রি করার সময় সর্বনিম্ন তাপ ব্যবহার করুন এবং ওপর থেকে পাতলা সুতির কাপড় দিন। দীর্ঘদিন হ্যাঙ্গারে না রেখে ভাঁজ করে রাখাই নিরাপদ। আলমারিতে শাড়ি রাখার সময় যে ভুলগুলো করবেন না ১. একই ভাঁজে দীর্ঘদিন রাখবেন না।মাসে অন্তত একবার শাড়ির ভাঁজ বদলে দিলে ভাঁজের জায়গায় চাপ পড়া কমে। ২. প্লাস্টিকের এয়ারটাইট কভার এড়িয়ে চলুন।এতে আর্দ্রতা আটকে গিয়ে কাপড়ের ক্ষতি হতে পারে। সুতির ব্যাগ বা শাড়ির কভার ব্যবহার করুন। ৩. শাড়ি একেবারে গাদাগাদি করে রাখবেন না।কিছুটা জায়গা রাখলে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং কাপড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। ৪. আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করুন।আলমারিতে সিলিকা জেল রাখা যেতে পারে। তবে সেটি যেন শিশুদের নাগালের বাইরে থাকে এবং প্যাকেট অক্ষত থাকে। ৫. পারফিউম সরাসরি শাড়িতে নয়।সুগন্ধিতে থাকা রাসায়নিক ও অ্যালকোহল দীর্ঘমেয়াদে কাপড় বা জরির ক্ষতি করতে পারে। ৬. পোকার হাত থেকে বাঁচাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি।নিমপাতা বা শুকনো লবঙ্গ ব্যবহার করার প্রচলন থাকলেও এগুলো সরাসরি শাড়ির সঙ্গে না রেখে আলাদা প্যাকেটে রাখা ভালো। শাড়ি ভালো রাখার আসল রহস্য দামি শাড়ি কিনলেই সেটি বছরের পর বছর ভালো থাকবে—এমনটা নয়। কাপড়ের ধরন বুঝে পরিষ্কার করা, সঠিকভাবে শুকানো এবং আর্দ্রতা থেকে দূরে রেখে সংরক্ষণ করাই শাড়ির দীর্ঘস্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে বেনারসি, কাঞ্জিভরম, জামদানি বা মায়ের-ঠাকুমার পুরনো শাড়ির ক্ষেত্রে বাড়িতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে প্রয়োজনে পেশাদার পরিষ্কার ও সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। একটু বাড়তি যত্নেই প্রিয় শাড়ি শুধু একটি পুজো নয়, পরের প্রজন্মের কাছেও হয়ে উঠতে পারে স্মৃতির অমূল্য সম্পদ।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>