বিজ্ঞাপন
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আমি আজকে তাদের বাসায় এসে যতটুকু বুঝতে পারলাম, মাদকাসক্ত হয়ে সবসময় এই বাসার গার্ডিয়ান, আমাদের প্রিয় স্যার গণপতি চক্রবর্তীকে হয়তো ডিস্টার্ব করত। সে কারণে হয়তো উনি বাধা দিতে গিয়েছিলেন। সেই কারণ থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা জানেন, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পুলিশ প্রশাসন মূল যে দুজন আসামি, দুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি পর্যন্ত দিয়েছে।
বর্তমান সরকার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে আমরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করেছি। কিছুদিন আগে ঢাকায় রামিশা হত্যাকাণ্ড, লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী হত্যার রায় ছয় কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। একটু অধিকতর তদন্ত শেষে এই চার হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পুলিশ অতিসত্বর দাখিল করবে। অল্প সময়ের ভেতরে এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর হবে।
রংপুর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যারা মূল আসামি, তারা তো স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত। আর আমার মনে হয় যে, মাদকই আইনশৃঙ্খলার অবনতির মূল কারণ।
মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মাদকের ব্যাপারে আমরা পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছি। আমরা আশা করি, এই মৃত্যুদণ্ড যেহেতু সর্বোচ্চ শাস্তি এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। জনগণসহ আইন-প্রশাসন ছাড়া এই মাদককে আমরা নির্মূল করতে পারব না।
তিনি রংপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে জেগে উঠতে হবে, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। পাড়ায়-মহল্লায় যদি আমরা ওই ধরনের সামাজিক একটা আন্দোলন তৈরি করতে পারি, তাহলে এই মাদক যারা ব্যবসা করে, যারা মাদক পরিবহন করে এবং যারা মাদক সেবন করে, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।
জিতু কবীর/কেএইচকে/এএসএম
বিজ্ঞাপন