ঢাকা, ১৮ জুন ২০২৬: সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও কৌশল চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো দ্রুত কার্যকরের লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে আগামী ২৪ জুন পরবর্তী বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির এই বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব, সচিব কমিটির নিজস্ব পর্যবেক্ষণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আগামী জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা শুরু হবে। তবে সব প্রক্রিয়া শেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতনের টাকা হাতে পেতে আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
নতুন পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন যেভাবে বাড়তে পারে:
১ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে ৫০% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াতে পারে ১,১৭,০০০ টাকায়।
২য় গ্রেড: সর্বোচ্চ ১,১৪,৭৩৫ টাকা এবং ৩য় গ্রেডের বেতন সর্বোচ্চ ১,১১,৬০০ টাকায় উন্নীত হতে পারে।
৪র্থ থেকে ১০ম গ্রেড: এই স্তরগুলোতেও মূল বেতন ৫০% বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ ধাপে ৫৭,৯৬০ টাকা) হবে।
১১তম থেকে ২০তম গ্রেড: নিম্নধাপের এই চাকরিজীবীদের জন্য মূল বেতন ৫০% বৃদ্ধির পাশাপাশি শতভাগ (১০০%) বৃদ্ধির একটি বিশেষ প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে। এই শতভাগ বৃদ্ধি কার্যকর হলে:
১১তম গ্রেডের বেতন ১২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫,০০০ টাকা হবে।
২০তম গ্রেডের বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে উন্নীত হয়ে ১৬,৫০০ টাকা হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সরকারি চাকরিজীবীদের এই দীর্ঘদিনের দাবি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও, বিদ্যমান বিশেষ সুবিধাসমূহ মূল বেতনের সাথে সমন্বয় করার কারণে ঘোষিত বর্ধিত বেতনের পুরো অংশটি সরাসরি অতিরিক্ত অর্থ হিসেবে পকেটে নাও আসতে পারে।
মন্তব্য করুন