জাতীয়

অটোরিকশার জন্য আলাদা লেন-চার্জিং স্টেশনসহ ৬ দাবি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
  রাজধানীসহ সারাদেশে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশাসহ স্বল্প গতির যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেন সার্ভিস এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পার্কিং ব্যবস্থা ও চার্জিং স্টেশনসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। ‘রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’ এসব দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে সেপ্টেম্বর সড়ক পররবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া ও ১০ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় ও জেলায় জেলায় সমাবেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবার বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে বলেও জানায় সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন। তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এলজিআরডি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সারাদেশে চালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও ভাবনা তুলে ধরেন। এ সময় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডিএমপি (ট্রাফিক) বিভাগসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা যতটুকু জেনেছি তাতে সরকারের এই পরিকল্পনা দেখলে মনে হয় উৎপাদন, চার্জিং, লাইসেন্স এবং চলাচলের বিষয়কে চূড়ান্তভাবে ব্যবসায়িক মানসিকতায় পরিচালনা করা হবে। একদল ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি করার সুযোগ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে যানজট, দুর্ঘটনা ও লোডশেডিংয়ের জন্য দায়ী করে হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকেই। কিন্তু কেন এত মানুষ রিকশা, ইজিবাইক চালান, কেন এত যাত্রী এসব বাহন ব্যবহার করে তার কারণগুলো কেউ বলছেন না। তীব্র বেকারত্ব যেমন রিকশা চালানোর মতো কাজে মানুষকে টেনে আনছে, তেমনি সহজ ও সস্তা আর কোনো বাহন না থাকায় সাধারণ মানুষ এসব বাহন ব্যবহার করছেন। আর লোডশেডিং সবচেয়ে কম থাকে রাত ১০টার পর এবং ব্যাটারিচালিত বাহনগুলো তখন চার্জ দেওয়া হয়। ফলে অপপ্রচার নয় সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আরও পড়ুন নিবন্ধন ছাড়া কোনো রিকশা চলতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক এ সময় স্থানীয় সরকারের পরিকল্পনা ও নানা অপপ্রচারের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, সংগ্রাম পরিষদ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, গাড়ি, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য বিআরটিএর অধীনে একটি অভিন্ন ও সমন্বিত নীতিমালার ভিত্তিতে ঢাকাসহ সারাদেশে গাড়ির নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স-প্রশিক্ষণ, রুট পারমিট, স্বল্প গতির ও লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন/সার্ভিস রোড নির্মাণ, অবৈধ রেকারিং, চাঁদাবাজি ও বিট বানিজ্য বন্ধ করাসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে লাগাতার আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। ‘এই আন্দোলন করতে গিয়ে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীরা কারাবরণ করেছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। যার মাধ্যমে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। কিন্তু এখনো কোনো নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি।’ সংবাদ সম্মেলনে ‘রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’র নেতারা/ছবি: জাগো নিউজ খালেকুজ্জামান বলেন, ২০১৩ সালে নীতিমালা চূড়ান্ত ও আধুনিকায়ন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান, প্রতিটি সড়ক মহাসড়কে স্বল্পগতির/লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন/সার্ভিস রোড নির্মাণ, চালকদের হয়রানি, অবৈধ চাঁদাবাজি, রেকারিং ও টোকেন বাণিজ্য বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। বিগত ১৩ বছরে সংগ্রাম পরিষদ নানা পর্যায়ে আন্দোলন করে বর্তমানে ১০ দফা নিয়ে আন্দোলন করছে। ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ও বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে অসংখ্যবার স্মারকলিপি প্রদান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান, ডিসি, সিটি করপোরেশন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে বৈঠক, ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।’ বলেন খালেকুজ্জামান লিপন। আরও পড়ুন বিদ্যুতের চাপ কমাতে ব্যাটারি রিকশায় সোলার চালুর পরিকল্পনা ডিএসসিসির তিনি বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে অংশীজনদের নিয়ে অসংখ্য মতবিনিময় সভা, গোলটেবিল বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন, স্বাক্ষর সংগ্রহ, লিফলেট, পোস্টার, প্রকাশনা করা হয়েছে। বাটারি নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা পরিচালনা করা, ঢাকা মহানগরে তিন দফা সড়ক অবরোধ ও জেলায় জেলায় কর্মবিরতি, অবরোধ, ঘেরাও নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা ‘অধিকারে’এই আন্দোলনের যুক্তি, ইতিহাস এবং বর্তমান বাস্তবতা আমরা উল্লেখ করেছি। বিগত ১৩ বছর ধরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য একটি নীতিমালার জন্য আমরা আন্দোলন করে আসছি। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে গোলটেবিল বৈঠক ও ১৩ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি পেশ ও বৈঠকেও আমরা আমাদের প্রস্তাব এবং পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। সংগ্রাম পরিষদের ৬ দাবি প্রশিক্ষণ-নিবন্ধন-রুট পারমিটের আওতায় নিয়ে এসে একটি সমন্বিত নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত করে স্থানীয় অটোমোবাইল শিল্পকে রক্ষা করতে হবে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের স্থানীয় উৎপাদককে সরকারি অনুমোদিত ই-রিকশার ডিজাইন দিয়ে ই-রিকশা উৎপাদন, বিপণনের অনুমতি প্রদান, স্থানীয় মেকানিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উৎপাদন, বিপণনে বিশেষ গোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া চলবে না। দেশের ও মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন স্থাপন করে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। লাইসেন্স, নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহার করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ অনেক ব্যয়বহুল ও আলোক স্বল্পতার জন্য এর ব্যবহারে নানা সমস্যা হয়। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপর এটা চাপানো ঠিক হবে না। সারাদেশে বর্তমানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানে ও প্রযুক্তিতে তৈরিকৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, পাখিসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সরকার অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী সংশোধন বা মোডিফাইড (পরিবর্তন) করার জন্য অন্তত পক্ষে দুই বছর সময় দেওয়ার বয়বস্থা করতে হবে। যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে, গাড়ি, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মহাসড়কে স্বল্পগতির/লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন/সার্ভিস রোড নির্মাণ করতে হবে। কেআর/ইএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>